ঢাকা ০৭:৩২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সারাদেশে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগ দাবি

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ১২:৫৪:৩৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
  • / 681

সারাদেশে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। চুরি, ডাকাতি, ছিনতাইয়ের মতো অপরাধ বাড়ছে। এমনকি মহাসড়কেও ডাকাতির ঘটনা ঘটছে। সাধারণ মানুষ মনে করছেন, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছেন। তার পদত্যাগ দাবি করেছেন অনেকে।

রাজধানীর চিত্র

রাজধানীতেও অপরাধের ঘটনা বাড়ছে। বনশ্রীতে স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে গুলি করে লুট, ধানমন্ডিতে অস্ত্র নিয়ে মহড়া এবং সায়েদাবাদে তরুণকে কুপিয়ে আহত করার ঘটনা ঘটেছে।

মহাসড়কের চিত্র

ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-টাঙ্গাইল, ঢাকা-রাজশাহী, ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে প্রায়ই ডাকাতির ঘটনা ঘটছে। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি রাতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে চলন্ত বাসে ডাকাতি ও ধর্ষণের ঘটনা ঘটে।

সাধারণ মানুষের ক্ষোভ

সাধারণ মানুষ মনে করছেন, এত পুলিশ থাকার পরও কেন আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। তারা স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগ দাবি করছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতামত

বিশ্লেষকদের অনেকে মনে করেন, পেশাদার পুলিশিং হচ্ছে না বলেই এমনটি হচ্ছে। পুলিশ বাহিনীতে ঘাপটি মেরে থাকা গণ-অভ্যুত্থানবিরোধী পুলিশ সদস্যদের গাফিলতির কারণে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যাচ্ছে না।

অপরাধ ও সমাজ বিজ্ঞানীরা বলছেন, অপরাধীরা এখন যতটা সক্রিয়, পুলিশ ততটা নিস্ক্রিয়। পেশাদার পুলিশিং হচ্ছে না বলেই এমনটি হচ্ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এ.বি.এম নাজমুস সাকিব বলেন, সমাজে যখন অস্বাভাবিক পরিবর্তন হয়, তখন বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়, আর এ বিশৃঙ্খলার সুযোগটাই নিচ্ছে অপরাধী চক্র।

অপরাধ বিশেষজ্ঞ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক বলেন, অপরাধীদের দৌরাত্ম্য যতটা বাড়ছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা এর চেয়ে পিছিয়ে রয়েছে।

পুলিশের বক্তব্য

ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেন, ৫ আগস্টের পর পুলিশ একটা ট্রমার মধ্যে ছিল। এখনো পুরো কাটিয়ে উঠতে পারেনি। তবে পরিস্থিতি আগের থেকে অনেকটাই উন্নতির দিকে। ছিনতাই-ডাকাতি রোধে পুলিশের টহল বাড়ানো হয়েছে। সামনের দিনগুলোতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।

হাইওয়ে পুলিশের প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. দেলোয়ার হোসেন মিঞা বলেন, মহাসড়কে ডাকাতি রুখতে আমরা বেশ কয়েকটি উদ্যোগ নিয়েছি। দূরপাল্লার কোনো গাড়ি পথে থামিয়ে যাত্রী ওঠাতে পারবে না। এছাড়া প্রত্যেক গাড়িতে যাত্রীদের ওঠানোর সময় বাধ্যতামূলক ভিডিও করতে হবে।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার বক্তব্য

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে. জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যেন উন্নতি হয়, এ ব্যবস্থা আমি করছি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের থেকে অনেক উন্নতি হয়েছে এবং আরো উন্নতি হতে থাকবে।

করণীয়

অপরাধীদের দৌরাত্ম্য কমাতে হলে পুলিশের তৎপরতা বাড়াতে হবে। পুলিশের দুর্বলতা কোথায়, তা চিহ্নিত করে প্রকাশ করতে হবে। অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে পারলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে।

সারাদেশে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগ দাবি

আপডেট সময় : ১২:৫৪:৩৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

সারাদেশে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। চুরি, ডাকাতি, ছিনতাইয়ের মতো অপরাধ বাড়ছে। এমনকি মহাসড়কেও ডাকাতির ঘটনা ঘটছে। সাধারণ মানুষ মনে করছেন, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছেন। তার পদত্যাগ দাবি করেছেন অনেকে।

রাজধানীর চিত্র

রাজধানীতেও অপরাধের ঘটনা বাড়ছে। বনশ্রীতে স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে গুলি করে লুট, ধানমন্ডিতে অস্ত্র নিয়ে মহড়া এবং সায়েদাবাদে তরুণকে কুপিয়ে আহত করার ঘটনা ঘটেছে।

মহাসড়কের চিত্র

ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-টাঙ্গাইল, ঢাকা-রাজশাহী, ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে প্রায়ই ডাকাতির ঘটনা ঘটছে। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি রাতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে চলন্ত বাসে ডাকাতি ও ধর্ষণের ঘটনা ঘটে।

সাধারণ মানুষের ক্ষোভ

সাধারণ মানুষ মনে করছেন, এত পুলিশ থাকার পরও কেন আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। তারা স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগ দাবি করছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতামত

বিশ্লেষকদের অনেকে মনে করেন, পেশাদার পুলিশিং হচ্ছে না বলেই এমনটি হচ্ছে। পুলিশ বাহিনীতে ঘাপটি মেরে থাকা গণ-অভ্যুত্থানবিরোধী পুলিশ সদস্যদের গাফিলতির কারণে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যাচ্ছে না।

অপরাধ ও সমাজ বিজ্ঞানীরা বলছেন, অপরাধীরা এখন যতটা সক্রিয়, পুলিশ ততটা নিস্ক্রিয়। পেশাদার পুলিশিং হচ্ছে না বলেই এমনটি হচ্ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এ.বি.এম নাজমুস সাকিব বলেন, সমাজে যখন অস্বাভাবিক পরিবর্তন হয়, তখন বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়, আর এ বিশৃঙ্খলার সুযোগটাই নিচ্ছে অপরাধী চক্র।

অপরাধ বিশেষজ্ঞ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক বলেন, অপরাধীদের দৌরাত্ম্য যতটা বাড়ছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা এর চেয়ে পিছিয়ে রয়েছে।

পুলিশের বক্তব্য

ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেন, ৫ আগস্টের পর পুলিশ একটা ট্রমার মধ্যে ছিল। এখনো পুরো কাটিয়ে উঠতে পারেনি। তবে পরিস্থিতি আগের থেকে অনেকটাই উন্নতির দিকে। ছিনতাই-ডাকাতি রোধে পুলিশের টহল বাড়ানো হয়েছে। সামনের দিনগুলোতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।

হাইওয়ে পুলিশের প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. দেলোয়ার হোসেন মিঞা বলেন, মহাসড়কে ডাকাতি রুখতে আমরা বেশ কয়েকটি উদ্যোগ নিয়েছি। দূরপাল্লার কোনো গাড়ি পথে থামিয়ে যাত্রী ওঠাতে পারবে না। এছাড়া প্রত্যেক গাড়িতে যাত্রীদের ওঠানোর সময় বাধ্যতামূলক ভিডিও করতে হবে।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার বক্তব্য

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে. জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যেন উন্নতি হয়, এ ব্যবস্থা আমি করছি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের থেকে অনেক উন্নতি হয়েছে এবং আরো উন্নতি হতে থাকবে।

করণীয়

অপরাধীদের দৌরাত্ম্য কমাতে হলে পুলিশের তৎপরতা বাড়াতে হবে। পুলিশের দুর্বলতা কোথায়, তা চিহ্নিত করে প্রকাশ করতে হবে। অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে পারলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে।