ঢাকা ০৬:৩৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বালুমহাল ইজারা নিয়ে সেনা সদস্য অপহরণ: বিএনপির ১২ শীর্ষ নেতার পদ স্থগিত

নিজস্ব প্রতিবেদক বরিশাল
  • আপডেট সময় : ১০:২০:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ মে ২০২৫
  • / 532

মেঘনা নদীর বালুমহালের ইজারা বাগাতে গিয়ে সেনা সদস্যকে অপহরণ ও মারধরের ঘটনায় বরিশাল বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ ১২ নেতার বিরুদ্ধে দলীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ছয় মাসের জন্য তাদের প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব ধরনের পদ স্থগিত করা হয়েছে।

এই সিদ্ধান্ত দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গৃহীত হয়েছে। বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত নোটিশ শাস্তিপ্রাপ্ত নেতাদের কাছে পাঠানো হয়েছে।


যাদের পদ স্থগিত হয়েছে

পদ স্থগিত হওয়া নেতারা হলেন:
১. হিজলা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট দেওয়ান মো. মনির হোসেন
২. বরিশাল জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মাহফুজুল আলম মিঠু
৩. জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব কামরুল হাসান
৪. মহানগর যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন
৫. জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি নূর হোসেন সুজন
৬. মহানগরের ৩০ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সদস্য সচিব মো. জাহিদ
৭. মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মশিউর রহমান মঞ্জু
৮. মহানগর যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাসুদ রাড়ি
৯. জেলা ছাত্রদলের সদস্য ইমরান খন্দকার
১০. মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন
১১. যুবদল নেতা রুবেল
১২. যুবদল নেতা ফাহিম


তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত

সবার চিঠিতে উল্লেখ রয়েছে: “আপনার বিরুদ্ধে বরিশালে বালুমহালের দরপত্র নিয়ে এক সেনা সদস্যকে মারধর ও মালামাল ছিনিয়ে নেওয়ার মতো হিংসাত্মক এবং জবরদস্তিমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। এটি দলীয় শৃঙ্খলার চরম লঙ্ঘন। এক সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গঠনতন্ত্র মোতাবেক আপনার প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব পর্যায়ের পদ আগামী ছয় মাসের জন্য স্থগিত করা হলো।”

দলীয় পর্যবেক্ষণ ও পূর্ববর্তী সিদ্ধান্ত

বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (বরিশাল বিভাগ) আকন কুদ্দুসুর রহমান জানান, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় দলীয় পদ স্থগিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, “জড়িতরা দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকায় লঘু শাস্তি হিসেবে পদ স্থগিত করা হয়েছে।”

গত ২৪ মার্চ রাতে ঘটনার পর তাদের তিন মাসের জন্য সাময়িকভাবে পদ স্থগিত করা হয়েছিল। এরপর জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি গোলাম মোহাম্মদ চৌধুরী আলালকে একমাত্র সদস্য করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই এবার ছয় মাসের জন্য পদ স্থগিত করা হয়েছে।

ঘটনার পটভূমি

গত ২৭ মার্চ দুপুরে বরিশাল জেলার ছয়টি বালুমহাল ইজারা দেওয়া হয়। হিজলা উপজেলা সংলগ্ন মেঘনার বালুমহাল ইজারা নিতে বিএনপি নেতারা সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। কিন্তু তাদের এড়িয়ে দরপত্র জমা দেন একজন প্রতিদ্বন্দ্বী দরদাতা কাজী আব্দুল মতিন।

এতে ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযুক্ত নেতারা মতিনের ভাতিজা আবু জাফরকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মারধর করে একটি রেস্ট হাউজে আটক করেন। খবর পেয়ে সেনাবাহিনীর সদস্যরা অভিযান চালিয়ে অপহৃত সেনা সদস্যকে উদ্ধার করে। এ সময় দেওয়ান মনির হোসেন, নূর হোসেন সুজন ও ইমরান খন্দকারকে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেফতার করা হয়।

সারাংশ:
বরিশালের হিজলায় মেঘনা নদীর বালুমহাল ইজারাকে কেন্দ্র করে সংঘটিত অপহরণ ও হামলার ঘটনায় বিএনপি ১২ নেতার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে। তদন্ত কমিটির সুপারিশে তাদের সব পদ ছয় মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

বালুমহাল ইজারা নিয়ে সেনা সদস্য অপহরণ: বিএনপির ১২ শীর্ষ নেতার পদ স্থগিত

আপডেট সময় : ১০:২০:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ মে ২০২৫

মেঘনা নদীর বালুমহালের ইজারা বাগাতে গিয়ে সেনা সদস্যকে অপহরণ ও মারধরের ঘটনায় বরিশাল বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ ১২ নেতার বিরুদ্ধে দলীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ছয় মাসের জন্য তাদের প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব ধরনের পদ স্থগিত করা হয়েছে।

এই সিদ্ধান্ত দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গৃহীত হয়েছে। বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত নোটিশ শাস্তিপ্রাপ্ত নেতাদের কাছে পাঠানো হয়েছে।


যাদের পদ স্থগিত হয়েছে

পদ স্থগিত হওয়া নেতারা হলেন:
১. হিজলা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট দেওয়ান মো. মনির হোসেন
২. বরিশাল জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মাহফুজুল আলম মিঠু
৩. জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব কামরুল হাসান
৪. মহানগর যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন
৫. জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি নূর হোসেন সুজন
৬. মহানগরের ৩০ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সদস্য সচিব মো. জাহিদ
৭. মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মশিউর রহমান মঞ্জু
৮. মহানগর যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাসুদ রাড়ি
৯. জেলা ছাত্রদলের সদস্য ইমরান খন্দকার
১০. মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন
১১. যুবদল নেতা রুবেল
১২. যুবদল নেতা ফাহিম


তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত

সবার চিঠিতে উল্লেখ রয়েছে: “আপনার বিরুদ্ধে বরিশালে বালুমহালের দরপত্র নিয়ে এক সেনা সদস্যকে মারধর ও মালামাল ছিনিয়ে নেওয়ার মতো হিংসাত্মক এবং জবরদস্তিমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। এটি দলীয় শৃঙ্খলার চরম লঙ্ঘন। এক সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গঠনতন্ত্র মোতাবেক আপনার প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব পর্যায়ের পদ আগামী ছয় মাসের জন্য স্থগিত করা হলো।”

দলীয় পর্যবেক্ষণ ও পূর্ববর্তী সিদ্ধান্ত

বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (বরিশাল বিভাগ) আকন কুদ্দুসুর রহমান জানান, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় দলীয় পদ স্থগিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, “জড়িতরা দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকায় লঘু শাস্তি হিসেবে পদ স্থগিত করা হয়েছে।”

গত ২৪ মার্চ রাতে ঘটনার পর তাদের তিন মাসের জন্য সাময়িকভাবে পদ স্থগিত করা হয়েছিল। এরপর জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি গোলাম মোহাম্মদ চৌধুরী আলালকে একমাত্র সদস্য করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই এবার ছয় মাসের জন্য পদ স্থগিত করা হয়েছে।

ঘটনার পটভূমি

গত ২৭ মার্চ দুপুরে বরিশাল জেলার ছয়টি বালুমহাল ইজারা দেওয়া হয়। হিজলা উপজেলা সংলগ্ন মেঘনার বালুমহাল ইজারা নিতে বিএনপি নেতারা সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। কিন্তু তাদের এড়িয়ে দরপত্র জমা দেন একজন প্রতিদ্বন্দ্বী দরদাতা কাজী আব্দুল মতিন।

এতে ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযুক্ত নেতারা মতিনের ভাতিজা আবু জাফরকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মারধর করে একটি রেস্ট হাউজে আটক করেন। খবর পেয়ে সেনাবাহিনীর সদস্যরা অভিযান চালিয়ে অপহৃত সেনা সদস্যকে উদ্ধার করে। এ সময় দেওয়ান মনির হোসেন, নূর হোসেন সুজন ও ইমরান খন্দকারকে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেফতার করা হয়।

সারাংশ:
বরিশালের হিজলায় মেঘনা নদীর বালুমহাল ইজারাকে কেন্দ্র করে সংঘটিত অপহরণ ও হামলার ঘটনায় বিএনপি ১২ নেতার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে। তদন্ত কমিটির সুপারিশে তাদের সব পদ ছয় মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।