ঢাকা ০৪:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নির্বাচনমুখী ফরিদপুর: বিএনপি’র চ্যালেঞ্জ, জামায়াত ও এনসিপি’র মাঠে নামার তোড়জোড়

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৪:৩১:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ জুলাই ২০২৫
  • / 306

ফরিদপুর, ১৭ জুলাই, ২০২৫ – আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ফরিদপুরের চারটি আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর মনোনয়নপ্রত্যাশীরা পুরোদমে মাঠে নেমেছেন। তবে, তাদের এই কার্যক্রমকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরেছে তীব্র দলীয় অন্তর্কোন্দল, যা ক্ষেত্রবিশেষে সংঘর্ষেরও জন্ম দিচ্ছে। এর বিপরীতে, নবগঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এখনো সাংগঠনিক ভিত্তি গড়তে না পারলেও সেপ্টেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের মাঠে নামার ঘোষণা দিয়েছে, আর নীরবে নিজেদের কাজ করে যাচ্ছে জামায়াতে ইসলামী।

বিএনপি’র কোন্দল: তিন আসনে একাধিক দাবিদার, সংঘর্ষ ও মামলাও!

ফরিদপুরের চারটি আসনের মধ্যে তিনটিতেই বিএনপির একাধিক শক্তিশালী মনোনয়নপ্রত্যাশী রয়েছেন। সব মিলিয়ে মোট ১৮ জন নেতা এই চার আসন থেকে বিএনপি’র টিকিটের আশায় কাজ করছেন। অভ্যন্তরীণ কোন্দল এতটাই প্রকট যে, কিছু ক্ষেত্রে তা সংঘাতেরও জন্ম দিচ্ছে।

ফরিদপুর-১ (বোয়ালমারী, আলফাডাঙ্গা ও মধুখালী): এ আসনে সাবেক সংসদ সদস্য খন্দকার নাসিরুল ইসলাম এবং বোয়ালমারী পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক শামসুদ্দীন মিয়া ওরফে ঝুনু ব্যানার-পোস্টার সাঁটিয়েছেন। তারা নিজ নিজ অনুসারীদের নিয়ে আলাদা অনুষ্ঠান করছেন এবং একে অপরের বিরুদ্ধে দোষারোপ ও আক্রমণাত্মক বক্তব্য দিচ্ছেন। এই দুই নেতার সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। অন্যান্য মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহসভাপতি মনিরুজ্জামান, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সদস্য জয়দেব কুমার রায়, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মাসুদুর রহমান, মধুখালী পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি সাহাবুদ্দিন আহমেদ এবং বুয়েট ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ডেভিড সিকদার।

ফরিদপুর-২ (নগরকান্দা ও সালথা): প্রয়াত মহাসচিব কে এম ওবায়দুর রহমানের মেয়ে শামা ওবায়েদ (বিএনপি’র কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক) এবং কৃষক দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম কয়েক বছর ধরে এখানে দলীয় কর্মকাণ্ড চালাচ্ছেন। তবে, ৫ আগস্টের পর তাদের নানা কর্মকাণ্ডে অভ্যন্তরীণ কোন্দল ছড়িয়ে পড়ে, যা শহীদুল ও শামার সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের জন্ম দেয় এবং কৃষক দলের সমর্থক কবির ভূঁইয়া নিহত হন। এ ঘটনায় শামা ওবায়েদসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলাও হয়, এবং দুই নেতার দলীয় পদ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হলেও গত ১০ নভেম্বর তা প্রত্যাহার করা হয়। সম্প্রতি শহীদুল ইসলামকে ফরিদপুর-৪ আসনে কাজ করার নির্দেশ দেওয়ায় শামা ওবায়েদ কিছুটা নির্ভার হলেও, তার চাচা নগরকান্দা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি কে এম জাহাঙ্গীর স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আবির্ভূত হতে পারেন। কে এম জাহাঙ্গীর দাবি করেছেন, শামা ওবায়েদের বিরোধী পক্ষ, জামায়াত ও ইসলামী ঐক্যজোট তাকে নির্বাচনে লড়ার জন্য চাপ দিচ্ছে। তিনি আওয়ামী লীগের অন্তত ৯০ শতাংশ ভোট পাওয়ারও আশা করেন।

ফরিদপুর-৩ (সদর উপজেলা): এ আসনে বিএনপির তিন জন মনোনয়নপ্রত্যাশী হলেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সৈয়দ মোদাররেছ আলী ইছা, কেন্দ্রীয় মহিলা দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী নায়াব ইউসুফ এবং কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহসভাপতি মাহবুবুল হাসান। চৌধুরী নায়াব ইউসুফ প্রয়াত চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফের মেয়ে, যিনি এই আসন থেকে পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি তার পারিবারিক ভোটব্যাংকের ওপর আস্থাশীল। সৈয়দ মোদাররেছ আলী ইছা, যার বাবা জেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন, তিনি ছাত্রজীবন থেকে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এবং আন্দোলন-সংগ্রামে বলিষ্ঠ ভূমিকার দাবিদার। মাহবুবুল হাসানও নিজেকে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় দাবি করে দলের মূল্যায়নের প্রত্যাশা করছেন।

ফরিদপুর-৪ (ভাঙ্গা, সদরপুর ও চরভদ্রাসন): বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নির্দেশে কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম (ফরিদপুর-২ এর সাবেক) এ আসনে এসে ব্যাপক গণসংযোগ করছেন। তিনি ৩৭ বছরের রাজনৈতিক জীবনে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে হামলা-মামলার শিকার ও কারাবন্দী হওয়ার কথা উল্লেখ করে এর মূল্যায়নের আশা করছেন। এছাড়া, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জহিরুল হক শাহজাদা মিয়া, আইনজীবী মাহবুবুর রহমান এবং কৃষক দলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আলমগীর কবিরও এ আসনে দলের টিকিট চাইছেন।

জামায়াতের নীরব প্রস্তুতি: ৪ আসনেই প্রার্থী চূড়ান্ত

জামায়াতে ইসলামী ফরিদপুরের চারটি আসনেই তাদের চারজন নেতাকে প্রাথমিকভাবে দলীয় প্রার্থী হিসেবে বাছাই করেছে।

ফরিদপুর-১: ঢাকা জেলা জামায়াতের শুরা ও কর্মপরিষদ সদস্য ইলিয়াস মোল্লা।

ফরিদপুর-২: নগরকান্দা উপজেলা জামায়াতের আমির ও নাজিম উদ্দিন উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সোহরাব হোসেন।

ফরিদপুর-৩: জামায়াতের কেন্দ্রীয় শুরা সদস্য ও ফরিদপুর অঞ্চলের সদস্য আবদুত তাওয়াব।

ফরিদপুর-৪: ভাঙ্গা উপজেলা জামায়াতের আমির ও তারাইল আলিম মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা সরোয়ার হোসেন।

এনসিপি’র দেরিতে আগমন: সেপ্টেম্বরে মাঠে নামার ঘোষণা

ফরিদপুরের চারটি আসনে এনসিপি’র কোনো নেতাকে এখনো নির্বাচনী মাঠে কাজ করতে দেখা যায়নি। এনসিপি ফরিদপুরের ভাঙ্গা কমিটি নিয়েও বিতর্ক রয়েছে, যেখানে সঠিক মূল্যায়নের অভাবের প্রতিবাদে দুজন পদত্যাগ করেছেন।

তবে, এনসিপি ফরিদপুরের প্রধান সমন্বয়কারী সৈয়দা নীলিমা দোলা জানিয়েছেন, বর্তমানে তারা ‘জুলাইয়ের পদযাত্রা’ নিয়ে ব্যস্ত আছেন, কারণ জুলাই মাস তাদের কাছে জন্ম ও চেতনার মাস। পাশাপাশি দলীয় নিবন্ধন ও প্রতীক বরাদ্দের কাজ চলছে। তিনি আশাবাদী, জুলাই ও আগস্টের মধ্যে এই কাজগুলো শেষ করে আগামী সেপ্টেম্বর মাস থেকে নির্বাচনের জন্য এনসিপি পুরোদমে মাঠে নামবে।

ফরিদপুরের এই চারটি আসন আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও জটিল রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

নির্বাচনমুখী ফরিদপুর: বিএনপি’র চ্যালেঞ্জ, জামায়াত ও এনসিপি’র মাঠে নামার তোড়জোড়

আপডেট সময় : ০৪:৩১:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ জুলাই ২০২৫

ফরিদপুর, ১৭ জুলাই, ২০২৫ – আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ফরিদপুরের চারটি আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর মনোনয়নপ্রত্যাশীরা পুরোদমে মাঠে নেমেছেন। তবে, তাদের এই কার্যক্রমকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরেছে তীব্র দলীয় অন্তর্কোন্দল, যা ক্ষেত্রবিশেষে সংঘর্ষেরও জন্ম দিচ্ছে। এর বিপরীতে, নবগঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এখনো সাংগঠনিক ভিত্তি গড়তে না পারলেও সেপ্টেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের মাঠে নামার ঘোষণা দিয়েছে, আর নীরবে নিজেদের কাজ করে যাচ্ছে জামায়াতে ইসলামী।

বিএনপি’র কোন্দল: তিন আসনে একাধিক দাবিদার, সংঘর্ষ ও মামলাও!

ফরিদপুরের চারটি আসনের মধ্যে তিনটিতেই বিএনপির একাধিক শক্তিশালী মনোনয়নপ্রত্যাশী রয়েছেন। সব মিলিয়ে মোট ১৮ জন নেতা এই চার আসন থেকে বিএনপি’র টিকিটের আশায় কাজ করছেন। অভ্যন্তরীণ কোন্দল এতটাই প্রকট যে, কিছু ক্ষেত্রে তা সংঘাতেরও জন্ম দিচ্ছে।

ফরিদপুর-১ (বোয়ালমারী, আলফাডাঙ্গা ও মধুখালী): এ আসনে সাবেক সংসদ সদস্য খন্দকার নাসিরুল ইসলাম এবং বোয়ালমারী পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক শামসুদ্দীন মিয়া ওরফে ঝুনু ব্যানার-পোস্টার সাঁটিয়েছেন। তারা নিজ নিজ অনুসারীদের নিয়ে আলাদা অনুষ্ঠান করছেন এবং একে অপরের বিরুদ্ধে দোষারোপ ও আক্রমণাত্মক বক্তব্য দিচ্ছেন। এই দুই নেতার সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। অন্যান্য মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহসভাপতি মনিরুজ্জামান, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সদস্য জয়দেব কুমার রায়, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মাসুদুর রহমান, মধুখালী পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি সাহাবুদ্দিন আহমেদ এবং বুয়েট ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ডেভিড সিকদার।

ফরিদপুর-২ (নগরকান্দা ও সালথা): প্রয়াত মহাসচিব কে এম ওবায়দুর রহমানের মেয়ে শামা ওবায়েদ (বিএনপি’র কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক) এবং কৃষক দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম কয়েক বছর ধরে এখানে দলীয় কর্মকাণ্ড চালাচ্ছেন। তবে, ৫ আগস্টের পর তাদের নানা কর্মকাণ্ডে অভ্যন্তরীণ কোন্দল ছড়িয়ে পড়ে, যা শহীদুল ও শামার সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের জন্ম দেয় এবং কৃষক দলের সমর্থক কবির ভূঁইয়া নিহত হন। এ ঘটনায় শামা ওবায়েদসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলাও হয়, এবং দুই নেতার দলীয় পদ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হলেও গত ১০ নভেম্বর তা প্রত্যাহার করা হয়। সম্প্রতি শহীদুল ইসলামকে ফরিদপুর-৪ আসনে কাজ করার নির্দেশ দেওয়ায় শামা ওবায়েদ কিছুটা নির্ভার হলেও, তার চাচা নগরকান্দা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি কে এম জাহাঙ্গীর স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আবির্ভূত হতে পারেন। কে এম জাহাঙ্গীর দাবি করেছেন, শামা ওবায়েদের বিরোধী পক্ষ, জামায়াত ও ইসলামী ঐক্যজোট তাকে নির্বাচনে লড়ার জন্য চাপ দিচ্ছে। তিনি আওয়ামী লীগের অন্তত ৯০ শতাংশ ভোট পাওয়ারও আশা করেন।

ফরিদপুর-৩ (সদর উপজেলা): এ আসনে বিএনপির তিন জন মনোনয়নপ্রত্যাশী হলেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সৈয়দ মোদাররেছ আলী ইছা, কেন্দ্রীয় মহিলা দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী নায়াব ইউসুফ এবং কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহসভাপতি মাহবুবুল হাসান। চৌধুরী নায়াব ইউসুফ প্রয়াত চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফের মেয়ে, যিনি এই আসন থেকে পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি তার পারিবারিক ভোটব্যাংকের ওপর আস্থাশীল। সৈয়দ মোদাররেছ আলী ইছা, যার বাবা জেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন, তিনি ছাত্রজীবন থেকে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এবং আন্দোলন-সংগ্রামে বলিষ্ঠ ভূমিকার দাবিদার। মাহবুবুল হাসানও নিজেকে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় দাবি করে দলের মূল্যায়নের প্রত্যাশা করছেন।

ফরিদপুর-৪ (ভাঙ্গা, সদরপুর ও চরভদ্রাসন): বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নির্দেশে কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম (ফরিদপুর-২ এর সাবেক) এ আসনে এসে ব্যাপক গণসংযোগ করছেন। তিনি ৩৭ বছরের রাজনৈতিক জীবনে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে হামলা-মামলার শিকার ও কারাবন্দী হওয়ার কথা উল্লেখ করে এর মূল্যায়নের আশা করছেন। এছাড়া, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জহিরুল হক শাহজাদা মিয়া, আইনজীবী মাহবুবুর রহমান এবং কৃষক দলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আলমগীর কবিরও এ আসনে দলের টিকিট চাইছেন।

জামায়াতের নীরব প্রস্তুতি: ৪ আসনেই প্রার্থী চূড়ান্ত

জামায়াতে ইসলামী ফরিদপুরের চারটি আসনেই তাদের চারজন নেতাকে প্রাথমিকভাবে দলীয় প্রার্থী হিসেবে বাছাই করেছে।

ফরিদপুর-১: ঢাকা জেলা জামায়াতের শুরা ও কর্মপরিষদ সদস্য ইলিয়াস মোল্লা।

ফরিদপুর-২: নগরকান্দা উপজেলা জামায়াতের আমির ও নাজিম উদ্দিন উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সোহরাব হোসেন।

ফরিদপুর-৩: জামায়াতের কেন্দ্রীয় শুরা সদস্য ও ফরিদপুর অঞ্চলের সদস্য আবদুত তাওয়াব।

ফরিদপুর-৪: ভাঙ্গা উপজেলা জামায়াতের আমির ও তারাইল আলিম মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা সরোয়ার হোসেন।

এনসিপি’র দেরিতে আগমন: সেপ্টেম্বরে মাঠে নামার ঘোষণা

ফরিদপুরের চারটি আসনে এনসিপি’র কোনো নেতাকে এখনো নির্বাচনী মাঠে কাজ করতে দেখা যায়নি। এনসিপি ফরিদপুরের ভাঙ্গা কমিটি নিয়েও বিতর্ক রয়েছে, যেখানে সঠিক মূল্যায়নের অভাবের প্রতিবাদে দুজন পদত্যাগ করেছেন।

তবে, এনসিপি ফরিদপুরের প্রধান সমন্বয়কারী সৈয়দা নীলিমা দোলা জানিয়েছেন, বর্তমানে তারা ‘জুলাইয়ের পদযাত্রা’ নিয়ে ব্যস্ত আছেন, কারণ জুলাই মাস তাদের কাছে জন্ম ও চেতনার মাস। পাশাপাশি দলীয় নিবন্ধন ও প্রতীক বরাদ্দের কাজ চলছে। তিনি আশাবাদী, জুলাই ও আগস্টের মধ্যে এই কাজগুলো শেষ করে আগামী সেপ্টেম্বর মাস থেকে নির্বাচনের জন্য এনসিপি পুরোদমে মাঠে নামবে।

ফরিদপুরের এই চারটি আসন আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও জটিল রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।