ঢাকা ০৩:২২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আল-জাজিরার রিপোর্টে ক্ষোভ: নাহিদ-আসিফ বাদ, সাংবাদিককে হুমকি দিলেন নেত্রী

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০১:১৮:০২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ জুলাই ২০২৫
  • / 638

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা সম্প্রতি ‘জুলাইয়ের ৩৬ দিন: উন্মোচিত হচ্ছে শেখ হাসিনার গোপন আদেশনামা’ শিরোনামে একটি তথ্যচিত্র প্রকাশ করেছে। এই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, গত বছরের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সময় ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরশাসক শেখ হাসিনা সরাসরি প্রাণঘাতী হামলার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে, আলোচিত এই তথ্যচিত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি সাদিক কায়েমের সাক্ষাৎকার থাকলেও, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখ্য সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম এবং স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার সাক্ষাৎকার না নেওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

সাদিক কায়েমের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে বিতর্ক

অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন যে, মূল আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ মুখ নাহিদ ও আসিফের সাক্ষাৎকার কেন নেওয়া হলো না, আর সাদিক কায়েমের সাক্ষাৎকার কেন এত প্রাধান্য পেল। কেউ কেউ বলছেন, সাদিক কায়েমের ইন্টারভিউ নেওয়ায় অনেকের ‘গাত্রদাহ’ হচ্ছে।

এএইচএম শাহীন নামে এক ব্যক্তি গতকাল শুক্রবার দুপুরে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়ে আল-জাজিরায় সাদিক কায়েমের সাক্ষাৎকারের সমালোচনা করেন। তার ভাষ্য, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ফ্রন্ট লাইনারের মধ্যে নাহিদ ছিলেন একমাত্র দৃশ্যমান আপসহীন চরিত্র এবং ‘সমন্বয়ক’ পরিচয়ের মধ্যে নাহিদ অন্যদের আইকন হয়ে উঠেছিলেন। শাহীন দাবি করেন, সাদিক কায়েম শিবির পরিচয়ে আত্মপ্রকাশের আগে তিনি তাকে চিনতেন না এবং তার মতো দেশের হাজার হাজার অভ্যুত্থানপন্থী জনতা আন্দোলনে সাদিক নামে কারো অস্তিত্ব জানতেন না। শাহীনের মতে, সাদিক জুলাইয়ের শক্তি এবং জুলাইয়ের হিস্যা তার প্রাপ্য, কিন্তু সমস্যা হলো আল-জাজিরা ও সামিরের (সাংবাদিক সামির)।

শাহীন তার স্ট্যাটাসে আরও উল্লেখ করেন, আল-জাজিরার পুরো ডকুমেন্টারিতে কৌশলগতভাবে জুলাইয়ের মেইনস্ট্রিম (মূলধারা) হিসেবে সাদিককে সামনে আনা হয়েছে। তার অভিযোগ, ভারসাম্য রক্ষার জন্য আল-জাজিরা নাহিদকে রিচ করতে পারেনি এবং নেতৃত্বের মধ্যে সবচেয়ে বড় দুই সারভাইভার নাহিদ ও আসিফের একটি সাক্ষাৎকার নেওয়া যায়নি।

ছাত্রনেতার কড়া প্রতিক্রিয়া: ‘সাংবাদিকদের কষায়ে থাপড়ানো উচিৎ’

শাহীনের এই সমালোচনামূলক স্ট্যাটাসের পক্ষে-বিপক্ষে নেটিজেনরা নানা মন্তব্য করেন। এদের মধ্যে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের (একাংশ) কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি নাজিফা জান্নাত আল-জাজিরার সাংবাদিকদের ‘হুমকি’ দিয়ে বসেন।

শাহীনের স্ট্যাটাসটি শেয়ার করে নিজের ফেসবুক ওয়ালে নাজিফা লেখেন, “আল-জাজিরার এই রিপোর্ট সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের কষায়ে থাপড়ানো উচিৎ। আই মিন সিরিয়াস জবাবদিহিতার মধ্যে আনা উচিৎ। ছাত্রলীগের আমব্রেলার নিচে ঘাপটি মেরে থাকা সাদিক কায়েম নাকি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের কি ফিগার। শেইম!”

এ বিষয়ে নাজিফার বক্তব্য জানতে তার মোবাইলে কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। এই বিতর্ক আল-জাজিরার তথ্যচিত্রটির বিশ্বাসযোগ্যতা এবং জুলাই আন্দোলনের মূল নেতৃত্ব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

আল-জাজিরার রিপোর্টে ক্ষোভ: নাহিদ-আসিফ বাদ, সাংবাদিককে হুমকি দিলেন নেত্রী

আপডেট সময় : ০১:১৮:০২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ জুলাই ২০২৫

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা সম্প্রতি ‘জুলাইয়ের ৩৬ দিন: উন্মোচিত হচ্ছে শেখ হাসিনার গোপন আদেশনামা’ শিরোনামে একটি তথ্যচিত্র প্রকাশ করেছে। এই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, গত বছরের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সময় ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরশাসক শেখ হাসিনা সরাসরি প্রাণঘাতী হামলার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে, আলোচিত এই তথ্যচিত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি সাদিক কায়েমের সাক্ষাৎকার থাকলেও, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখ্য সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম এবং স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার সাক্ষাৎকার না নেওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

সাদিক কায়েমের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে বিতর্ক

অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন যে, মূল আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ মুখ নাহিদ ও আসিফের সাক্ষাৎকার কেন নেওয়া হলো না, আর সাদিক কায়েমের সাক্ষাৎকার কেন এত প্রাধান্য পেল। কেউ কেউ বলছেন, সাদিক কায়েমের ইন্টারভিউ নেওয়ায় অনেকের ‘গাত্রদাহ’ হচ্ছে।

এএইচএম শাহীন নামে এক ব্যক্তি গতকাল শুক্রবার দুপুরে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়ে আল-জাজিরায় সাদিক কায়েমের সাক্ষাৎকারের সমালোচনা করেন। তার ভাষ্য, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ফ্রন্ট লাইনারের মধ্যে নাহিদ ছিলেন একমাত্র দৃশ্যমান আপসহীন চরিত্র এবং ‘সমন্বয়ক’ পরিচয়ের মধ্যে নাহিদ অন্যদের আইকন হয়ে উঠেছিলেন। শাহীন দাবি করেন, সাদিক কায়েম শিবির পরিচয়ে আত্মপ্রকাশের আগে তিনি তাকে চিনতেন না এবং তার মতো দেশের হাজার হাজার অভ্যুত্থানপন্থী জনতা আন্দোলনে সাদিক নামে কারো অস্তিত্ব জানতেন না। শাহীনের মতে, সাদিক জুলাইয়ের শক্তি এবং জুলাইয়ের হিস্যা তার প্রাপ্য, কিন্তু সমস্যা হলো আল-জাজিরা ও সামিরের (সাংবাদিক সামির)।

শাহীন তার স্ট্যাটাসে আরও উল্লেখ করেন, আল-জাজিরার পুরো ডকুমেন্টারিতে কৌশলগতভাবে জুলাইয়ের মেইনস্ট্রিম (মূলধারা) হিসেবে সাদিককে সামনে আনা হয়েছে। তার অভিযোগ, ভারসাম্য রক্ষার জন্য আল-জাজিরা নাহিদকে রিচ করতে পারেনি এবং নেতৃত্বের মধ্যে সবচেয়ে বড় দুই সারভাইভার নাহিদ ও আসিফের একটি সাক্ষাৎকার নেওয়া যায়নি।

ছাত্রনেতার কড়া প্রতিক্রিয়া: ‘সাংবাদিকদের কষায়ে থাপড়ানো উচিৎ’

শাহীনের এই সমালোচনামূলক স্ট্যাটাসের পক্ষে-বিপক্ষে নেটিজেনরা নানা মন্তব্য করেন। এদের মধ্যে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের (একাংশ) কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি নাজিফা জান্নাত আল-জাজিরার সাংবাদিকদের ‘হুমকি’ দিয়ে বসেন।

শাহীনের স্ট্যাটাসটি শেয়ার করে নিজের ফেসবুক ওয়ালে নাজিফা লেখেন, “আল-জাজিরার এই রিপোর্ট সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের কষায়ে থাপড়ানো উচিৎ। আই মিন সিরিয়াস জবাবদিহিতার মধ্যে আনা উচিৎ। ছাত্রলীগের আমব্রেলার নিচে ঘাপটি মেরে থাকা সাদিক কায়েম নাকি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের কি ফিগার। শেইম!”

এ বিষয়ে নাজিফার বক্তব্য জানতে তার মোবাইলে কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। এই বিতর্ক আল-জাজিরার তথ্যচিত্রটির বিশ্বাসযোগ্যতা এবং জুলাই আন্দোলনের মূল নেতৃত্ব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে।