গাজার ত্রাণবহরে ইসরাইলি আগ্রাসন: কড়া জবাব, কলম্বিয়ার কূটনীতিক বহিষ্কার
- আপডেট সময় : ০৯:৩৭:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ অক্টোবর ২০২৫
- / 181
গাজাগামী আন্তর্জাতিক ত্রাণবহরে ইসরাইলি বাহিনীর হামলার ঘটনায় বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। আন্তর্জাতিক জলসীমায় ইসরাইলের এই বাধা দানকে বিভিন্ন দেশ ‘অবৈধ’ আখ্যা দিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে কলম্বিয়া সরকার তাদের দেশে থাকা সব ইসরাইলি কূটনীতিককে বহিষ্কারের মতো চরম পদক্ষেপ নিয়েছে।
জাতিসংঘ, যুক্তরাজ্য, আয়ারল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশের সরকার এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং আটককৃত নাগরিকদের দ্রুত মুক্তির দাবি জানিয়েছে।
জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর কঠোর বার্তা
আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন এবং মানবিক সহায়তায় বাধা দেওয়ার জন্য ইসরাইলকে কড়া বার্তা দিয়েছে জাতিসংঘ ও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।
জাতিসংঘের আহ্বান: জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার ভলকার টুর্ক ইসরাইলের প্রতি “দ্রুত গাজার অবরোধ তুলে নিতে এবং সব সম্ভাব্য উপায়ে জীবন রক্ষাকারী উপকরণের প্রবেশাধিকার দেওয়ার” আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ইসরাইলকে অবশ্যই নিরপেক্ষ মানবিক সহায়তার প্রকল্পগুলো “কোনো বাধা ছাড়াই” সহজতর করতে সম্মত হতে হবে।
অ্যামনেস্টির নিন্দা: অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল-এর মহাসচিব অ্যাগনেস ক্যালামার্ড গাজার ওপর ইসরাইলের অবরোধকে ‘অবৈধ’ আখ্যা দিয়ে বলেছেন, “বহু দশক ধরে ইসরাইল যেভাবে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের দায়মুক্তি পাচ্ছে তার শেষ হতে হবে।”
বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
হামলার পর অনেক দেশ ইসরাইলের বিরুদ্ধে সরাসরি পদক্ষেপ নিয়েছে বা কঠোর বিবৃতি দিয়েছে।
দেশ প্রতিক্রিয়া
কলম্বিয়া প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর এই বাধা দেওয়াকে “আন্তর্জাতিক অপরাধ” বলে নিন্দা জানিয়েছেন এবং দেশে থাকা সব ইসরাইলি কূটনীতিককে বহিষ্কার করেছেন।
স্পেন ও বেলজিয়াম গাজাগামী ত্রাণবহর আটকের প্রতিবাদে স্পেন ইসরাইলি চার্জ ডি’অ্যাফেয়ার্সকে তলব করেছে। একইভাবে বেলজিয়ামও তাদের আটককৃত সাতজন নাগরিকের ঘটনায় ইসরাইলি রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে।
আয়ারল্যান্ড ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী সাইমন হ্যারিস প্রতিবেদনগুলোকে “উদ্বেগজনক” বলেছেন। আটককৃতদের মধ্যে সিন ফেইন সেনেটর ক্রিস অ্যান্ড্রুজসহ অন্তত সাতজন আইরিশ নাগরিক আছেন।
তুরস্ক প্রেসিডেন্ট এরদোগান ইসরাইলি আগ্রাসনের সমালোচনা করে বলেছেন, এর মাধ্যমে প্রমাণ হয়েছে যে ইসরাইল সরকারের শান্তির আশা তৈরি হতে দেওয়ার কোনো ইচ্ছা নেই।
দক্ষিণ আফ্রিকা প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা অবিলম্বে দক্ষিণ আফ্রিকানদের মুক্তির দাবি জানিয়েছেন, যাদের মধ্যে প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট নেলসন ম্যান্ডেলার নাতিও রয়েছেন।
যুক্তরাজ্য পররাষ্ট্র দপ্তর নৌকায় থাকা ব্রিটিশ নাগরিকদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং পরিস্থিতি নিরাপদভাবে সমাধানের আশা প্রকাশ করেছে।
বিশ্বজুড়ে বিক্ষোভ ও ধর্মঘট
ইসরাইলের এই কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে ইউরোপ ও লাতিন আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে।
ইউরোপীয় প্রতিবাদ: প্রতিবাদে ডাবলিন, প্যারিস, বার্লিন এবং জেনেভার রাস্তায় হাজার হাজার ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভকারী সমবেত হন।
অন্যান্য অঞ্চলে: বুয়েনস এইরেস, মেক্সিকো সিটি এবং করাচিতেও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ইতালির ধর্মঘট: ইতালির ইউনিয়নগুলো শুক্রবার সাধারণ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে এবং দেশটিতে ১০০রও বেশি মিছিল বা গণসমাবেশের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি ত্রাণ পৌঁছানোর প্রচেষ্টার সমালোচনা করে বলেছেন, “এসব কিছুই ফিলিস্তিনি জনগণের কোনো উপকারে আসে না।”
পাকিস্তান, বলিভিয়া এবং মালয়েশিয়াসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থানেও ইসরাইলের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখা গেছে।


























