ঢাকা ০৩:২১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশে বিনিয়োগে সম্ভাবনার দ্বার খুলছে: ১৫ হাজার নতুন চাকরির সুযোগ আসছে শিগগিরই

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০১:১২:৫০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ এপ্রিল ২০২৫
  • / 301

আগামী দুই-এক বছরের মধ্যে বাংলাদেশে ১৫ হাজার লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান। এই ঘোষণা এসেছে চলমান বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট সামিট থেকে, যেখানে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণে একটি ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

বিনিয়োগে আগ্রহীদের উদ্দেশ্যে ড. ইউনূসের আহ্বান

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আহ্বান জানিয়ে বলেন, “যদি কারো মধ্যে ব্যবসার পাশাপাশি দেশ পরিবর্তনের আগ্রহ থাকে, তবে বাংলাদেশ হতে পারে সেই জায়গা।” তিনি বাংলাদেশকে একটি ‘উন্মাদ ধারণা বাস্তবায়নের দেশ’ বলে উল্লেখ করেন।

চুক্তি ও বিনিয়োগের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি

সম্মেলনের তৃতীয় দিনে ঐতিহাসিক চুক্তিগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ ও নাসার মধ্যে ‘আর্টেমিস চুক্তি’। এছাড়া নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এনডিবি) বাংলাদেশে ১ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। পণ্য বিপণনকারী এক দেশি প্রতিষ্ঠানও হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ পেয়েছে।

স্টারলিংকের সেবা ও নতুন অনুমোদন

সম্মেলনে উপস্থিত অতিথিদের জন্য ১০০-১২০ এমবিপিএস গতির ইন্টারনেট সেবা দিয়েছে বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠান স্টারলিংক, যারা ইতোমধ্যে বাংলাদেশে ব্যবসার অনুমোদন পেয়েছে।

সম্মেলনের নেতৃত্বে ড. ইউনূস

ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস এম রাশিদুল ইসলাম বলেন, “বিশ্বে এটাই প্রথম কোনো সম্মেলন যেখানে একটি দেশের প্রধান উপদেষ্টা সরাসরি সবকিছু তদারকি করছেন।” তার মতে, এই সম্মেলনের মাধ্যমে বাংলাদেশ এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।

বিনিয়োগের বাধা ও সরকারের প্রতিশ্রুতি

বিনিয়োগকারীরা সরকারি সেবার মান, ইউটিলিটি ঘাটতি, দুর্নীতি এবং সরকারি সংস্থাগুলোর সহযোগিতা না পাওয়াকে প্রধান বাধা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তবে বিডা জানিয়েছে, এসব সমস্যা সমাধানে সরকার কার্যকর উদ্যোগ নিচ্ছে।

বাণিজ্য উপদেষ্টার বক্তব্য

এক সেমিনারে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন বলেন, “দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ একটি বিনিয়োগবান্ধব জায়গা। বিনিয়োগের বাধা দূর করে একটি সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরিতে সরকার কাজ করছে।”

সম্মাননা ও পুরস্কার প্রদান

অনুষ্ঠানে দক্ষিণ কোরিয়ার ইয়ংওয়ান করপোরেশনের চেয়ারম্যান কিহাক সাংকে সম্মানসূচক নাগরিকত্ব প্রদান করা হয়। এছাড়া ‘এক্সিলেন্স ইন ইনভেস্টমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছে চারটি প্রতিষ্ঠান।

সামাজিক ব্যবসার মাধ্যমে বিশ্ব পরিবর্তনের স্বপ্ন

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আপনার ব্যবসায় যদি সামাজিক উদ্দেশ্য যুক্ত করা যায়, তাহলে তা লাভের পথে বাধা নয় বরং তা আরও অর্থবহ হয়ে উঠবে।” তার মতে, ব্যবসা এখন একটি শক্তিশালী হাতিয়ার, যার মাধ্যমে সমাজে বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব।

তরুণ প্রজন্ম ও উদ্যোক্তাদের ভূমিকা

ড. ইউনূস বলেন, “আপনারা চাকরি খোঁজার লোক নন, বরং উদ্যোক্তা। তরুণ প্রজন্মের হাতে রয়েছে প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, সমস্যা সমাধানের চিন্তা – তারা পারে পৃথিবী বদলাতে।” তিনি ৭০-এর দশকে সাহসী কিছু তরুণের গার্মেন্ট শিল্প গড়ার দৃষ্টান্ত তুলে ধরেন।

প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে অগ্রযাত্রা

প্রথম প্রজন্মের উদ্যোক্তাদের পথ ধরে এখন দ্বিতীয় এবং তৃতীয় প্রজন্ম এগিয়ে আসছে বলে মন্তব্য করেন প্রধান উপদেষ্টা। নারীরাও উদ্যোক্তা হিসেবে সমানভাবে সৃজনশীল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ব্যবসার মাধ্যমে বিশ্বে পরিবর্তনের আহ্বান

ড. ইউনূস বলেন, “বাংলাদেশে ব্যবসা কেবল এই দেশের জন্য নয়, বরং তা বিশ্বের জন্য হতে পারে। আপনারা ব্যবসার মাধ্যমে শুধু বাংলাদেশকেই নয়, পুরো পৃথিবীকে বদলে দিন।”

বাংলাদেশে বিনিয়োগে সম্ভাবনার দ্বার খুলছে: ১৫ হাজার নতুন চাকরির সুযোগ আসছে শিগগিরই

আপডেট সময় : ০১:১২:৫০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ এপ্রিল ২০২৫

আগামী দুই-এক বছরের মধ্যে বাংলাদেশে ১৫ হাজার লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান। এই ঘোষণা এসেছে চলমান বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট সামিট থেকে, যেখানে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণে একটি ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

বিনিয়োগে আগ্রহীদের উদ্দেশ্যে ড. ইউনূসের আহ্বান

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আহ্বান জানিয়ে বলেন, “যদি কারো মধ্যে ব্যবসার পাশাপাশি দেশ পরিবর্তনের আগ্রহ থাকে, তবে বাংলাদেশ হতে পারে সেই জায়গা।” তিনি বাংলাদেশকে একটি ‘উন্মাদ ধারণা বাস্তবায়নের দেশ’ বলে উল্লেখ করেন।

চুক্তি ও বিনিয়োগের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি

সম্মেলনের তৃতীয় দিনে ঐতিহাসিক চুক্তিগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ ও নাসার মধ্যে ‘আর্টেমিস চুক্তি’। এছাড়া নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এনডিবি) বাংলাদেশে ১ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। পণ্য বিপণনকারী এক দেশি প্রতিষ্ঠানও হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ পেয়েছে।

স্টারলিংকের সেবা ও নতুন অনুমোদন

সম্মেলনে উপস্থিত অতিথিদের জন্য ১০০-১২০ এমবিপিএস গতির ইন্টারনেট সেবা দিয়েছে বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠান স্টারলিংক, যারা ইতোমধ্যে বাংলাদেশে ব্যবসার অনুমোদন পেয়েছে।

সম্মেলনের নেতৃত্বে ড. ইউনূস

ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস এম রাশিদুল ইসলাম বলেন, “বিশ্বে এটাই প্রথম কোনো সম্মেলন যেখানে একটি দেশের প্রধান উপদেষ্টা সরাসরি সবকিছু তদারকি করছেন।” তার মতে, এই সম্মেলনের মাধ্যমে বাংলাদেশ এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।

বিনিয়োগের বাধা ও সরকারের প্রতিশ্রুতি

বিনিয়োগকারীরা সরকারি সেবার মান, ইউটিলিটি ঘাটতি, দুর্নীতি এবং সরকারি সংস্থাগুলোর সহযোগিতা না পাওয়াকে প্রধান বাধা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তবে বিডা জানিয়েছে, এসব সমস্যা সমাধানে সরকার কার্যকর উদ্যোগ নিচ্ছে।

বাণিজ্য উপদেষ্টার বক্তব্য

এক সেমিনারে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন বলেন, “দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ একটি বিনিয়োগবান্ধব জায়গা। বিনিয়োগের বাধা দূর করে একটি সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরিতে সরকার কাজ করছে।”

সম্মাননা ও পুরস্কার প্রদান

অনুষ্ঠানে দক্ষিণ কোরিয়ার ইয়ংওয়ান করপোরেশনের চেয়ারম্যান কিহাক সাংকে সম্মানসূচক নাগরিকত্ব প্রদান করা হয়। এছাড়া ‘এক্সিলেন্স ইন ইনভেস্টমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছে চারটি প্রতিষ্ঠান।

সামাজিক ব্যবসার মাধ্যমে বিশ্ব পরিবর্তনের স্বপ্ন

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আপনার ব্যবসায় যদি সামাজিক উদ্দেশ্য যুক্ত করা যায়, তাহলে তা লাভের পথে বাধা নয় বরং তা আরও অর্থবহ হয়ে উঠবে।” তার মতে, ব্যবসা এখন একটি শক্তিশালী হাতিয়ার, যার মাধ্যমে সমাজে বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব।

তরুণ প্রজন্ম ও উদ্যোক্তাদের ভূমিকা

ড. ইউনূস বলেন, “আপনারা চাকরি খোঁজার লোক নন, বরং উদ্যোক্তা। তরুণ প্রজন্মের হাতে রয়েছে প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, সমস্যা সমাধানের চিন্তা – তারা পারে পৃথিবী বদলাতে।” তিনি ৭০-এর দশকে সাহসী কিছু তরুণের গার্মেন্ট শিল্প গড়ার দৃষ্টান্ত তুলে ধরেন।

প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে অগ্রযাত্রা

প্রথম প্রজন্মের উদ্যোক্তাদের পথ ধরে এখন দ্বিতীয় এবং তৃতীয় প্রজন্ম এগিয়ে আসছে বলে মন্তব্য করেন প্রধান উপদেষ্টা। নারীরাও উদ্যোক্তা হিসেবে সমানভাবে সৃজনশীল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ব্যবসার মাধ্যমে বিশ্বে পরিবর্তনের আহ্বান

ড. ইউনূস বলেন, “বাংলাদেশে ব্যবসা কেবল এই দেশের জন্য নয়, বরং তা বিশ্বের জন্য হতে পারে। আপনারা ব্যবসার মাধ্যমে শুধু বাংলাদেশকেই নয়, পুরো পৃথিবীকে বদলে দিন।”