ঢাকা ০২:২২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বড় খুন নিয়ে মুখ খুললে বাংলাদেশ উত্তাল হবে: মমতা

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৯:৩২:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬
  • / 140

বিধানসভা নির্বাচনে বিপর্যয়ের পর প্রথম রাজনৈতিক কর্মসূচিতে নেমেই যেন ‘পারমাণবিক’ বিস্ফোরণ ঘটালেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলের অন্দরে তীব্র ভাঙন আর বিধায়কদের বিদ্রোহের আবহেই দিল্লির মোদী-শাহ সরকারকে চরম চাপে ফেলতে এক আন্তর্জাতিক সমীকরণ টেনে আনলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। বাংলাদেশের একটি আলোচিত হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে সরাসরি বিস্ফোরক দাবি করেছেন তিনি। তাঁর দাবি, ওপার বাংলার এক দুর্ধর্ষ খুনিকে রাজ্য পুলিশ ধরার পরই স্বয়ং অমিত শাহ তাঁকে ফোন করে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে বলেছিলেন।

মঙ্গলবার (২ জুন) কলকাতার প্রাণকেন্দ্র ধর্মতলার ওয়াই চ্যানেলে আয়োজিত এক ধরনা কর্মসূচি থেকে কার্যত হুঙ্কার ছাড়েন সাবেক মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানান, দিল্লির অত্যাচার এখন শেষ সীমায় পৌঁছেছে বলেই তিনি আজ এই ‘তথ্যভাণ্ডার’ খুলতে বাধ্য হয়েছেন।

শাহের ফোন এবং বাংলাদেশের সেই ‘খুনি’:

ধর্মতলার মঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, “বাংলাদেশ থেকে একটা বড় খুনি মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে চলে এসেছিল। আমাদের রাজ্য পুলিশের এসটিএফ (STF) তাদের ধরে। এটা আমাদের পুলিশের মস্ত কৃতিত্ব। কিন্তু তারপর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নিজে আমাকে ফোন করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, আপনি রাজ্য পুলিশকে জানিয়ে দিন এটা যেন বাইরে না যায়, কারণ এটা দেশের ব্যাপার।”

এরপরই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে সরাসরি নিশানা করে মমতা প্রশ্ন ছোঁড়েন, “কাকে দিয়ে খুন করিয়েছিলেন? কার কার নাম বেরিয়েছিল? আজকের সরকার পরিবর্তন হলেও আমি সবটাই জানি। আমার হৃদয়টাই একটা তথ্যভাণ্ডার।” তবে কোন হত্যাকাণ্ডের কথা তিনি বলছেন, স্ট্র্যাটেজিক কারণেই তা খোলসা করেননি তৃণমূল নেত্রী। তাঁর সাফ কথা, “আমি সেই নামটা বলতে চাইছি না, বললে বাংলাদেশ উত্তাল হয়ে যাবে। আমি বাংলাদেশকে ভালোবাসি। দেশের স্বার্থে ওই নাম আমি বলব না।”

ভাঙনের মুখে দাঁড়িয়েও লড়াকু মেজাজ:

এ দিনের কর্মসূচিতে শুধু আন্তর্জাতিক ইস্যুই নয়, মিশনারিজ অব চ্যারিটিসের তহবিল বন্ধ করে দেওয়া নিয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সোচ্চার হন মমতা। তবে এই চোখধাঁধানো র্যালির নেপথ্যে লুকিয়ে রয়েছে তৃণমূলের এক চরম সাংগঠনিক সংকট। বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূল এখন কার্যত অস্তিত্বের সংকটে। দলের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৬০ জনই এখন ‘বিদ্রোহী’ হিসেবে চিহ্নিত। এমনকি খোদ দলের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে বারবার ডাক দেওয়া সত্ত্বেও এ দিনের ধরনায় মাত্র ছয়জন বিধায়কের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে! সাংসদ বা শীর্ষ নেতাদের সিংহভাগই ছিলেন অনুপস্থিত।

এই শূন্যতা ঢাকতেই দিল্লির দিকে চক্রান্তের আঙুল তুলেছেন মমতা। তাঁর অভিযোগ, “দিল্লি থেকে কলকাঠি নাড়িয়ে পুলিশ দিয়ে ভয় দেখিয়ে তৃণমূলকে ভেঙে দেওয়ার চক্রান্ত চলছে। কিন্তু সেই চক্রান্ত সফল হবে না।” দলত্যাগীদের ‘গাদ্দার’ আখ্যা দিয়ে অত্যন্ত বেদনার সুরে তিনি বলেন, “আজকে আমার একটাই দুঃখ, যাদের জন্য সারা জীবন করলাম, তারাই আজ গাদ্দারের সঙ্গে লাইন দিয়েছে। যারা আজকে তৃণমূলকে ভাঙছে, ঈশ্বর যেন তাদের সুমতি দেন।”

এর আগে সকালে রেড রোডে গিয়ে আম্বেদকর ও মহাত্মা গান্ধীর মূর্তিতে শ্রদ্ধা জানিয়ে ধরনা শুরু করেন মমতা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দল যখন চারপাশ থেকে ভাঙনের মুখে, তখন মোদী-শাহ জুটিকে কোণঠাসা করতে এবং কর্মীদের চাঙ্গা করতেই মমতার এই চরম ‘বাংলাদেশ তাস’।

বড় খুন নিয়ে মুখ খুললে বাংলাদেশ উত্তাল হবে: মমতা

আপডেট সময় : ০৯:৩২:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬

বিধানসভা নির্বাচনে বিপর্যয়ের পর প্রথম রাজনৈতিক কর্মসূচিতে নেমেই যেন ‘পারমাণবিক’ বিস্ফোরণ ঘটালেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলের অন্দরে তীব্র ভাঙন আর বিধায়কদের বিদ্রোহের আবহেই দিল্লির মোদী-শাহ সরকারকে চরম চাপে ফেলতে এক আন্তর্জাতিক সমীকরণ টেনে আনলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। বাংলাদেশের একটি আলোচিত হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে সরাসরি বিস্ফোরক দাবি করেছেন তিনি। তাঁর দাবি, ওপার বাংলার এক দুর্ধর্ষ খুনিকে রাজ্য পুলিশ ধরার পরই স্বয়ং অমিত শাহ তাঁকে ফোন করে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে বলেছিলেন।

মঙ্গলবার (২ জুন) কলকাতার প্রাণকেন্দ্র ধর্মতলার ওয়াই চ্যানেলে আয়োজিত এক ধরনা কর্মসূচি থেকে কার্যত হুঙ্কার ছাড়েন সাবেক মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানান, দিল্লির অত্যাচার এখন শেষ সীমায় পৌঁছেছে বলেই তিনি আজ এই ‘তথ্যভাণ্ডার’ খুলতে বাধ্য হয়েছেন।

শাহের ফোন এবং বাংলাদেশের সেই ‘খুনি’:

ধর্মতলার মঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, “বাংলাদেশ থেকে একটা বড় খুনি মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে চলে এসেছিল। আমাদের রাজ্য পুলিশের এসটিএফ (STF) তাদের ধরে। এটা আমাদের পুলিশের মস্ত কৃতিত্ব। কিন্তু তারপর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নিজে আমাকে ফোন করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, আপনি রাজ্য পুলিশকে জানিয়ে দিন এটা যেন বাইরে না যায়, কারণ এটা দেশের ব্যাপার।”

এরপরই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে সরাসরি নিশানা করে মমতা প্রশ্ন ছোঁড়েন, “কাকে দিয়ে খুন করিয়েছিলেন? কার কার নাম বেরিয়েছিল? আজকের সরকার পরিবর্তন হলেও আমি সবটাই জানি। আমার হৃদয়টাই একটা তথ্যভাণ্ডার।” তবে কোন হত্যাকাণ্ডের কথা তিনি বলছেন, স্ট্র্যাটেজিক কারণেই তা খোলসা করেননি তৃণমূল নেত্রী। তাঁর সাফ কথা, “আমি সেই নামটা বলতে চাইছি না, বললে বাংলাদেশ উত্তাল হয়ে যাবে। আমি বাংলাদেশকে ভালোবাসি। দেশের স্বার্থে ওই নাম আমি বলব না।”

ভাঙনের মুখে দাঁড়িয়েও লড়াকু মেজাজ:

এ দিনের কর্মসূচিতে শুধু আন্তর্জাতিক ইস্যুই নয়, মিশনারিজ অব চ্যারিটিসের তহবিল বন্ধ করে দেওয়া নিয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সোচ্চার হন মমতা। তবে এই চোখধাঁধানো র্যালির নেপথ্যে লুকিয়ে রয়েছে তৃণমূলের এক চরম সাংগঠনিক সংকট। বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূল এখন কার্যত অস্তিত্বের সংকটে। দলের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৬০ জনই এখন ‘বিদ্রোহী’ হিসেবে চিহ্নিত। এমনকি খোদ দলের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে বারবার ডাক দেওয়া সত্ত্বেও এ দিনের ধরনায় মাত্র ছয়জন বিধায়কের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে! সাংসদ বা শীর্ষ নেতাদের সিংহভাগই ছিলেন অনুপস্থিত।

এই শূন্যতা ঢাকতেই দিল্লির দিকে চক্রান্তের আঙুল তুলেছেন মমতা। তাঁর অভিযোগ, “দিল্লি থেকে কলকাঠি নাড়িয়ে পুলিশ দিয়ে ভয় দেখিয়ে তৃণমূলকে ভেঙে দেওয়ার চক্রান্ত চলছে। কিন্তু সেই চক্রান্ত সফল হবে না।” দলত্যাগীদের ‘গাদ্দার’ আখ্যা দিয়ে অত্যন্ত বেদনার সুরে তিনি বলেন, “আজকে আমার একটাই দুঃখ, যাদের জন্য সারা জীবন করলাম, তারাই আজ গাদ্দারের সঙ্গে লাইন দিয়েছে। যারা আজকে তৃণমূলকে ভাঙছে, ঈশ্বর যেন তাদের সুমতি দেন।”

এর আগে সকালে রেড রোডে গিয়ে আম্বেদকর ও মহাত্মা গান্ধীর মূর্তিতে শ্রদ্ধা জানিয়ে ধরনা শুরু করেন মমতা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দল যখন চারপাশ থেকে ভাঙনের মুখে, তখন মোদী-শাহ জুটিকে কোণঠাসা করতে এবং কর্মীদের চাঙ্গা করতেই মমতার এই চরম ‘বাংলাদেশ তাস’।