বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের পিঠে শুল্ক-চাবুক ওয়াশিংটনের
- আপডেট সময় : ১২:০৭:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬
- / 79
বিশ্ব বাণিজ্যের আঙিনায় ফের ‘দাদাগিরি’ আমেরিকার? নাকি স্রেফ মানবাধিকারের দোহাই দিয়ে নিজেদের বাজার সুরক্ষার মরিয়া চেষ্টা? জোরপূর্বক শ্রমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থতার গুরুতর অভিযোগ তুলে এবার বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৬০টি দেশের ওপর এক ধাক্কায় নতুন শুল্ক চাপানোর প্রস্তাব দিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। সরকারি নথি খতিয়ে দেখে আন্তর্জাতিক মহল জানাচ্ছে, ওয়াশিংটনের এই নতুন প্রস্তাবে অভিযুক্ত দেশগুলি থেকে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ থেকে শুরু করে সাড়ে ১২ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত শুল্ক চাপানোর সুপারিশ করা হয়েছে।
চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং জাপানের মতো প্রথম সারির বাণিজ্য অংশীদারদের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটন এক দফা তদন্ত শুরু করার কয়েক মাসের মাথাতেই এই বড়সড় পদক্ষেপ নিল মার্কিন প্রশাসন।
জোরপূর্বক শ্রম ও আমেরিকার ‘অজুহাত’:
আমেরিকার এই পদক্ষেপের নেপথ্যে রয়েছে এক সুনির্দিষ্ট বাণিজ্যিক কৌশল। মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয় (ইউএসটিআর) স্পষ্ট জানিয়েছে, জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত সস্তা পণ্য মার্কিন অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যকে চরমভাবে বাধাগ্রস্ত করছে। আর এই অনৈতিক বাণিজ্য রুখতেই ওয়াশিংটনের এই কড়া দাওয়াই।
মঙ্গলবার ইউএসটিআর-এর তরফে জানানো হয়, তালিকাভুক্ত দেশগুলির মধ্যে ৫৪টি রাষ্ট্রই আসলে ‘জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে পণ্য আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং তা কার্যকরভাবে প্রয়োগ করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে’। ঘটনাচক্রে, ট্রাম্প প্রশাসন যখন মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের ধাক্কায় বাতিল হয়ে যাওয়া তাদের জরুরি শুল্ক কাঠামো নতুন করে পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে, ঠিক তখনই এই ৬০ দেশের ওপর কর-বাণ নিক্ষেপ করা হলো।
শুল্কের দুই খাঁড়া, তালিকায় বাংলাদেশ:
ইউএসটিআর-এর তদন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, শুল্কের খাঁড়াকে মূলত দুটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। জোরপূর্বক শ্রম সংক্রান্ত তদন্তের পরিপ্রেক্ষিতে প্রথম তালিকায় থাকা বাংলাদেশ, কানাডা, ইকুয়েডর, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ইন্দোনেশিয়া, মেক্সিকো, পাকিস্তান, আর্জেন্টিনা, কম্বোডিয়া, এল সালভাদর, গুয়াতেমালা, মালয়েশিয়া, তাইওয়ান এবং যুক্তরাজ্যের মতো ১৪টি দেশের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, আমেরিকার এই শুল্ক-বাণের তীব্রতা আরও বেশি টের পাবে তদন্তাধীন বাকি ৪৫টি দেশ। মার্কিন বাণিজ্য সংস্থাটি জানিয়েছে, সেই দেশগুলির পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ১২.৫ শতাংশ শুল্ক চাপানো হবে। বিশ্বখ্যাত সংবাদমাধ্যম ‘ডন’-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন এই সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকসহ রপ্তানি খাতে বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
























