ঢাকা ১২:৪৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গ্রেপ্তারি পরোয়ানাপ্রাপ্তদের তালিকায় বর্তমান ও সাবেক ২৩ সেনা কর্মকর্তা

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ১২:১৭:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ অক্টোবর ২০২৫
  • / 456

আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকারের দীর্ঘ শাসনামলে বিরোধী দল ও মতের লোকদের গুম ও নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের হওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের দুই মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আমলে নিয়েছেন। এই দুই মামলায় সাবেক স্বৈরাচারী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রধান আসামি করে মোট ৩০ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন ট্রাইব্যুনাল।

বুধবার (৮ অক্টোবর) ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই অভিযোগ আমলে নেন।

অভিযোগের মূল বিষয়

অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগের শাসনামলে বিরোধী দল ও মতের লোকদের গুম করে র‍্যাবের টাস্কফোর্স ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেল এবং জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টারে (জেআইসি) বন্দি রেখে নির্যাতন করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী: এ সময় বহু মানুষ গুমের শিকার হন, যার মধ্যে শতাধিক মানুষের এখনো খোঁজ মেলেনি।

মুক্তির ঘটনা: গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর বেশ কয়েকজন গুমের শিকার ব্যক্তি গোপন বন্দিশালা থেকে মুক্তি পান। তাঁদের মধ্যে ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাশেম ও আবদুল্লাহিল আমান আযমী অন্যতম।

মামলা: এসব ভুক্তভোগীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গুমের এই দুই মামলা দায়ের হয়।

আসামি তালিকায় সামরিক-বেসামরিক শীর্ষ কর্মকর্তারা

দুটি মামলায় প্রকৃত আসামির সংখ্যা ২৮ জন। এর মধ্যে দুটি মামলাতেই শেখ হাসিনা ও তাঁর সাবেক নিরাপত্তা উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিকীর নাম রয়েছে।

৫ জন বেসামরিক ও পুলিশ কর্মকর্তা

১. শেখ হাসিনা (সাবেক প্রধানমন্ত্রী) ২. তারিক আহমেদ সিদ্দিকী (সাবেক নিরাপত্তা উপদেষ্টা) ৩. আসাদুজ্জামান খান কামাল (সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) ৪. বেনজির আহমেদ (সাবেক আইজিপি ও র‍্যাবের সাবেক ডিজি) ৫. এম খুরশিদ হোসেন ও ব্যারিস্টার মো. হারুন-অর-রশিদ (র‍্যাবের সাবেক দুই ডিজি)

২৩ জন সামরিক কর্মকর্তা

গুরুত্বপূর্ণ সামরিক কর্মকর্তারা: ডিজিএফআইয়ের সাবেক পাঁচজন মহাপরিচালকসহ (লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. আকবর হোসেন, মেজর জেনারেল সাইফুল আবেদিন, লেফটেন্যান্ট জেনারেল সাইফুল আলম, লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ তাবরেজ শামস চৌধুরী ও মেজর জেনারেল হামিদুল হক) মোট ২৩ জন বর্তমান ও সাবেক সামরিক কর্মকর্তাকে আসামি করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, সংশোধিত আইন অনুযায়ী আসামিরা কোনো পদে থাকতে পারবেন না।

গ্রেপ্তারি পরোয়ানাপ্রাপ্তদের তালিকায় বর্তমান ও সাবেক ২৩ সেনা কর্মকর্তা

আপডেট সময় : ১২:১৭:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ অক্টোবর ২০২৫

আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকারের দীর্ঘ শাসনামলে বিরোধী দল ও মতের লোকদের গুম ও নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের হওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের দুই মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আমলে নিয়েছেন। এই দুই মামলায় সাবেক স্বৈরাচারী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রধান আসামি করে মোট ৩০ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন ট্রাইব্যুনাল।

বুধবার (৮ অক্টোবর) ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই অভিযোগ আমলে নেন।

অভিযোগের মূল বিষয়

অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগের শাসনামলে বিরোধী দল ও মতের লোকদের গুম করে র‍্যাবের টাস্কফোর্স ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেল এবং জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টারে (জেআইসি) বন্দি রেখে নির্যাতন করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী: এ সময় বহু মানুষ গুমের শিকার হন, যার মধ্যে শতাধিক মানুষের এখনো খোঁজ মেলেনি।

মুক্তির ঘটনা: গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর বেশ কয়েকজন গুমের শিকার ব্যক্তি গোপন বন্দিশালা থেকে মুক্তি পান। তাঁদের মধ্যে ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাশেম ও আবদুল্লাহিল আমান আযমী অন্যতম।

মামলা: এসব ভুক্তভোগীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গুমের এই দুই মামলা দায়ের হয়।

আসামি তালিকায় সামরিক-বেসামরিক শীর্ষ কর্মকর্তারা

দুটি মামলায় প্রকৃত আসামির সংখ্যা ২৮ জন। এর মধ্যে দুটি মামলাতেই শেখ হাসিনা ও তাঁর সাবেক নিরাপত্তা উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিকীর নাম রয়েছে।

৫ জন বেসামরিক ও পুলিশ কর্মকর্তা

১. শেখ হাসিনা (সাবেক প্রধানমন্ত্রী) ২. তারিক আহমেদ সিদ্দিকী (সাবেক নিরাপত্তা উপদেষ্টা) ৩. আসাদুজ্জামান খান কামাল (সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) ৪. বেনজির আহমেদ (সাবেক আইজিপি ও র‍্যাবের সাবেক ডিজি) ৫. এম খুরশিদ হোসেন ও ব্যারিস্টার মো. হারুন-অর-রশিদ (র‍্যাবের সাবেক দুই ডিজি)

২৩ জন সামরিক কর্মকর্তা

গুরুত্বপূর্ণ সামরিক কর্মকর্তারা: ডিজিএফআইয়ের সাবেক পাঁচজন মহাপরিচালকসহ (লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. আকবর হোসেন, মেজর জেনারেল সাইফুল আবেদিন, লেফটেন্যান্ট জেনারেল সাইফুল আলম, লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ তাবরেজ শামস চৌধুরী ও মেজর জেনারেল হামিদুল হক) মোট ২৩ জন বর্তমান ও সাবেক সামরিক কর্মকর্তাকে আসামি করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, সংশোধিত আইন অনুযায়ী আসামিরা কোনো পদে থাকতে পারবেন না।