খালেদা জিয়ার আসনে জামায়াতের প্রার্থী ঘোষণা
- আপডেট সময় : ০১:১৫:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৫
- / 327
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বগুড়ার সাতটি আসনে নিজেদের প্রার্থী ঘোষণা করেছে জামায়াতে ইসলামী। এর মধ্যে রয়েছে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্রার্থিতার এলাকা বগুড়া-৬ ও বগুড়া-৭ আসনও। জামায়াতের প্রার্থীরা ইতোমধ্যে সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন।
বগুড়া-৬ (সদর) আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী হচ্ছেন কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য ও বগুড়া শহর জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ আবিদুর রহমান সোহেল। অন্যদিকে বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনে প্রার্থী হয়েছেন কেন্দ্রীয় জামায়াতের মজলিসে শূরা সদস্য ও বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সহ-সভাপতি গোলাম রব্বানী। ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কর্মী ও সাথিদের প্রীতি সমাবেশে ৫ এপ্রিল শহীদ টিটু মিলনায়তনে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এই প্রার্থিতা ঘোষণা করেন।
খালেদা জিয়া ও জিয়া পরিবারের সম্ভাব্য প্রার্থিতা
তবে বগুড়া-৬ ও ৭ আসনে বিএনপির পক্ষ থেকে এখনো চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা করা হয়নি। স্থানীয় বিএনপি নেতাদের মতে, এসব আসনে জিয়া পরিবারের সদস্যরা প্রার্থী হবেন বলেই তারা ধরে নিচ্ছেন। খালেদা জিয়া প্রার্থী না হলে, তারেক রহমানকে নিয়ে প্রত্যাশা রয়েছে।
বগুড়া-৬ আসনে সম্ভাব্য বিএনপি প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন: দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট একেএম মাহবুবুর রহমান, জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা, সাধারণ সম্পাদক আলী আজগর তালুকদার হেনা এবং সাবেক সভাপতি সাইফুল ইসলাম। যদিও তারা কেউই এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলেননি।
বগুড়া-৭ আসনে জিয়া পরিবারের বাইরে প্রার্থী হতে পারেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক এমপি হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু এবং জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও গাবতলী উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোরশেদ মিল্টন। তারা দুইজনই জিয়া পরিবারের অনুপস্থিতিতে প্রার্থিতা নিতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন।
আসনগুলোর অতীত ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
বগুড়া-৬ ও বগুড়া-৭ আসন দুটিকে ‘ভিআইপি’ আসন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বগুড়া-৬ বিএনপির দুর্গ হিসেবে পরিচিত। স্বাধীনতার পর এ আসনে ১৬টি জাতীয় সংসদ ও উপনির্বাচনের মধ্যে ১০ বার বিএনপি, তিনবার আওয়ামী লীগ, একবার জাতীয় পার্টি, একবার জামায়াত ও একবার স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। খালেদা জিয়া এখানে একাধিকবার প্রার্থী হলেও বেশিরভাগ সময় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেননি, বরং উপনির্বাচনের মাধ্যমে প্রতিনিধিত্ব হতো।
বগুড়া-৭ আসনটিও জিয়া পরিবারের ঐতিহাসিক ভিত্তি হিসেবে পরিচিত। প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্মভূমি এই এলাকা। এখানে ১৫টি নির্বাচনে বিএনপি ১০ বার, আওয়ামী লীগ দুইবার, জাতীয় পার্টি দুইবার এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী একবার জয়ী হয়েছেন।
জামায়াত ও অন্যান্য দলের তৎপরতা
বিএনপি ও জামায়াত ছাড়াও এনসিপি এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো মাঠে সক্রিয় হতে শুরু করেছে। জেলা জুড়ে অনেক সম্ভাব্য প্রার্থী পোস্টারিং করেছেন, তবে এখনো তাদের প্রার্থী চূড়ান্ত হয়নি। আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি এবং ১৪ দলের নেতাকর্মীরা কেউ কেউ গ্রেফতার হয়ে আছেন, কেউবা আত্মগোপনে। জামায়াতের পক্ষ থেকে আশা করা হচ্ছে, তারা শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে পারবেন।
বগুড়া সদর আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান বলেন, “খালেদা জিয়া প্রার্থী না হলে দলীয় মনোনয়ন চাইব। দীর্ঘদিন দলীয় দায়িত্ব পালন করেছি, তাই আশা করি দল আমাকে মূল্যায়ন করবে।”
জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা জানান, “এখনো খালেদা জিয়ার প্রার্থিতা নিয়ে সিদ্ধান্ত আসেনি। সময় হলে সিদ্ধান্ত নেব।”
বগুড়া-৭ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু বলেন, “খালেদা জিয়া বা তারেক রহমান প্রার্থী না হলে আমি দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রার্থী হব।” অপর সম্ভাব্য প্রার্থী মোরশেদ মিল্টন বলেন, “জিয়া পরিবারের কেউ প্রার্থী না হলে, দল চাইলে আমি প্রস্তুত।”
স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মতে, জামায়াতের প্রার্থীরা বড় চ্যালেঞ্জ নয়, কারণ জিয়া পরিবারের সদস্য প্রার্থী হলে তাদের জনপ্রিয়তা ও রাজনৈতিক ভিত্তি অনেক বেশি। অন্যদিকে জামায়াতের নেতারা আত্মবিশ্বাসী যে তারা ভোটারদের সমর্থন পেয়ে সফল হতে পারবেন।


























