স্মৃতিসৌধে জনতার ঢল, রাষ্ট্রীয় শ্রদ্ধায় রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টা
- আপডেট সময় : ০২:০০:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫
- / 219
আজ মহান বিজয় দিবসে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করতে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে সর্বস্তরের মানুষের ঢল নেমেছে। কুয়াশা ও হিমেল হাওয়া উপেক্ষা করে হাতে লাল-সবুজের পতাকা এবং হৃদয়ে গভীর দেশপ্রেম নিয়ে হাজারো মানুষ শহীদ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করছেন।
সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে, ভোর ৬টা ৩৪ মিনিটে জাতীয় স্মৃতিসৌধের মূল বেদিতে প্রথম পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এ সময় সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর একটি চৌকস দল রাষ্ট্রীয় সালাম প্রদান করে। এর আগে ভোরে ঢাকায় ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে বিজয় দিবসের কর্মসূচির সূচনা হয়।
পুষ্পস্তবক অর্পণের পর রাষ্ট্রপতি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন এবং বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে। পরে তিনি দর্শনার্থী বইয়ে স্বাক্ষর করেন। জাতীয় স্মৃতিসৌধে পৌঁছালে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের সর্বাধিনায়ক হিসেবে রাষ্ট্রপতিকে তিন বাহিনীর প্রধানরা স্বাগত জানান। এ সময় আহত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের সদস্য, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা, বিদেশি কূটনীতিক এবং উচ্চপদস্থ সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে রাষ্ট্রপতি মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
প্রধান উপদেষ্টার শ্রদ্ধা ও জনতার ঢল
রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা নিবেদনের পর ভোর ৬টা ৫৬ মিনিটে জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
পুষ্পস্তবক অর্পণের পর প্রধান উপদেষ্টা ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। এ সময় সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর চৌকস দল রাষ্ট্রীয় সালাম প্রদান করে এবং বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে। প্রধান উপদেষ্টা স্মৃতিসৌধে সংরক্ষিত দর্শনার্থী বইয়ে স্বাক্ষর করেন। এ সময় প্রধান বিচারপতি, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা, তিন বাহিনীর প্রধান, মুক্তিযোদ্ধা, কূটনীতিকসহ পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টার শ্রদ্ধা নিবেদনের পরপরই স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণ সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার মানুষ বীর শহীদদের স্মরণ করতে ভিড় করেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনও ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে শহীদ বেদিতে ফুল দিতে আসে।
শিশুদের মাথায় জাতীয় পতাকা এবং গালে আঁকা আল্পনা বিজয়ের আমেজকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। শ্রদ্ধা জানাতে আসা মানুষজনের কণ্ঠে ছিল অসাম্প্রদায়িক এবং বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার। সেই সঙ্গে নতুন প্রজন্মের মাঝে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন অনেকে।


























