ঢাকা ০৮:০১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিএনপির প্রার্থী হতে চান? লাগবে এই তিন বিশেষ যোগ্যতা!

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ১১:০০:৪১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ জুন ২০২৫
  • / 706

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জোরদার প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলটির হাইকমান্ড ইতিমধ্যে প্রার্থী বাছাইয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে এবং এর জন্য একাধিক জরিপ সম্পন্ন করেছে।

লন্ডনে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বৈঠকে নির্বাচনের একটি “সন্তোষজনক সময়” নির্ধারণের পরই বিএনপি ভোটের প্রস্তুতি শুরু করেছে। এই মুহূর্তে দলটির জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো উপযুক্ত প্রার্থী বাছাই করা, কারণ ৫ আগস্টের অভ্যুত্থানের পর প্রতিটি আসনে বিএনপির হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে আগ্রহী অসংখ্য প্রার্থী ইতিমধ্যেই গণসংযোগে নেমেছেন। তবে দলটির হাইকমান্ড যোগ্য প্রার্থী খুঁজে বের করতে ইতিমধ্যেই কয়েক দফা জরিপ চালিয়েছে এবং এই প্রক্রিয়া এখনও চলমান।

প্রার্থী বাছাইয়ের মৌলিক নীতি ও মানদণ্ড

দলীয় সূত্র অনুযায়ী, মনোনয়নের ক্ষেত্রে ২০০১, ২০০৮ এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের বর্তমান অবস্থান পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করা হবে। বিএনপি এমন প্রার্থীর হাতেই নির্বাচনী টিকিট তুলে দেবে, যাকে মনোনয়ন দিলে সাধারণ ভোটাররা খুশি হবেন।

এক্ষেত্রে, তিনটি মৌলিক নীতিকে মনোনয়নের অন্যতম মানদণ্ড হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে:

১. ত্যাগ ও সংগ্রাম: গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াই-সংগ্রামে দেশ ও দলের জন্য যে প্রার্থী সবচেয়ে বেশি ত্যাগ স্বীকার করেছেন। ২. সততা ও গ্রহণযোগ্যতা: যিনি সততার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ এবং নিজ এলাকার জনগণের কাছে একজন ভালো মানুষ হিসেবে সুপরিচিত। ৩. জনপ্রিয়তা: ভোটের রাজনীতিতে যিনি তার নির্বাচনী এলাকায় সর্বাধিক জনপ্রিয়।

দলটির একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র এই মানদণ্ডের কথা যুগান্তরকে নিশ্চিত করেছে।

তরুণদের অগ্রাধিকার ও চমকের ইঙ্গিত

সূত্রমতে, মনোনয়ন প্রদানের ক্ষেত্রে তরুণ প্রার্থীরা অগ্রাধিকার পেতে পারেন। তবে দলের বৃহত্তর স্বার্থ বিবেচনা করে নবীন-প্রবীণের চমৎকার সমন্বয় ঘটিয়ে প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করা হবে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পরিবার থেকেও একাধিক প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন বলে জানা গেছে। এছাড়াও, মিত্র দলগুলোর জন্য কিছু আসন ছাড় দেবে বিএনপি, যা নির্বাচনী কৌশলে নতুন চমক আনতে পারে।

একক প্রার্থী ও নির্বাচনী কার্যক্রম

আওয়ামী লীগের টানা সাড়ে ১৫ বছরে তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে ২০১৪ ও ২০২৪ সালের নির্বাচন বিএনপিসহ বেশিরভাগ রাজনৈতিক দল বর্জন করে। তবে ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিলেও ‘আগের রাতে ভোট’ হওয়ার অভিযোগ তুলে নির্বাচন থেকে সরে আসে। প্রতিকূল পরিবেশে অনুষ্ঠিত ওই নির্বাচনে বিএনপি একটি আসনের বিপরীতে একাধিক প্রার্থীকে চিঠি দিয়েছিল। তবে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে এমনটি করা হবে না বলে জানিয়েছে দল।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ যুগান্তরকে বলেছেন, “এবার দলের সিদ্ধান্ত হলো একক প্রার্থী নির্ধারণ করা। ২০১৮ সালের মতো একাধিক প্রার্থী হবে না।”

তবে, নির্বাচন কমিশনের তফসিল ঘোষণার পরই নির্বাচনকেন্দ্রিক সব কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে। তফসিল ঘোষণার পর দলীয়ভাবে মনোনয়নপত্র বিক্রি ও জমা দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হবে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের সাক্ষাৎকারের পর বিএনপির পার্লামেন্টারি বোর্ড একক প্রার্থী চূড়ান্ত করবে।

দলটির গঠনতন্ত্রের ১৪ অনুচ্ছেদে বলা আছে, “জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য কিংবা অন্য যে কোনো নির্বাচনের জন্য দলের প্রার্থী মনোনয়নে দলের একটি পার্লামেন্টারি বোর্ড থাকবে। জাতীয় স্থায়ী কমিটিই হবে দলের পার্লামেন্টারি বোর্ড। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কিংবা যে কোনো নির্বাচনে দলের প্রার্থী মনোনয়নের দায়িত্ব পার্লামেন্টারি বোর্ড পালন করবে এবং এ ব্যাপারে বোর্ডের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।”

এ প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির একাধিক নেতা যুগান্তরকে বলেছেন, এবার প্রার্থী মনোনয়নে বড় ধরনের অনেক চমক থাকতে পারে। কিছু আসনে এমন ব্যক্তিদের প্রার্থী দেওয়া হবে, যাদের কথা অনেকের চিন্তার মধ্যেও থাকবে না। আবার অনেক সিনিয়র ও প্রভাবশালী নেতাও শেষ পর্যন্ত মনোনয়নের টিকিট নাও পেতে পারেন।

তারা আরও জানান, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ত্যাগী, সৎ-যোগ্য এবং সর্বোপরি জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য প্রার্থীকেই বেছে নিতে পারেন। এছাড়া, এটি নিশ্চিত যে, যার বিরুদ্ধে অপকর্মের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে এবং মাঠে গ্রহণযোগ্যতা নেই, তিনি প্রার্থী হতে পারবেন না। এ বিষয়ে অনেক আগে থেকেই তারেক রহমানের কাছে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাদের আমলনামা রয়েছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, “দলের প্রতি কার কতটুকু ত্যাগ রয়েছে, নিঃস্বার্থভাবে দলকে সেবা করেছেন এবং দুর্দিনে যারা দলের সঙ্গে ছিলেন তাদের আমরা নিশ্চয়ই অগ্রাধিকার দেব। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান কয়েকটি জরিপ করেছেন, আরও করবেন। এর ফলে নিশ্চয়ই যোগ্য ব্যক্তি উঠে আসবে এবং তাকেই মনোনয়ন দেওয়া হবে।”

বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি যুগান্তরকে বলেছেন, “বিএনপি একটি নির্বাচনমুখী রাজনৈতিক দল। আন্দোলন-সংগ্রাম ও সংগঠন পরিচালনা করে নির্বাচন করার জন্য। ফলে নির্বাচনের জন্য আলাদা করে প্রস্তুতি নেওয়ার কিছু নেই, নির্বাচনের জন্য বিএনপি সব সময় প্রস্তুত।” তিনি আরও বলেন, “বিএনপি একটি বড় রাজনৈতিক দল। অনেকে প্রার্থী হতে চান। এক্ষেত্রে দল প্রথমে যেসব প্রার্থীর জনগণের সঙ্গে বেশি সম্পর্ক থাকবে, তাকেই মূল্যায়ন করবে। পাশাপাশি ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন, দলের দুর্দিনে ত্যাগ ও দলের প্রতি যাদের আনুগত্য রয়েছে – এমন প্রার্থীদেরও মূল্যায়ন করবে।”

মিত্রদের জন্য আসন ছাড়

বিএনপি সূত্রমতে, বিগত দিনে বিশেষ করে শেখ হাসিনার সাড়ে ১৫ বছরের ‘দুঃশাসনকালে’ যেসব দল ও জোট তাদের সঙ্গে আন্দোলন-সংগ্রামে ছিল, রাজপথের এমন সঙ্গীদের জন্য আসন ছাড়বে বিএনপি। আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে একসঙ্গে নির্বাচনী মাঠে থাকার চিন্তা করছে দলটি। এজন্য কোন আসনে কোন দলকে ছাড় দেওয়া যেতে পারে, মাঠপর্যায় থেকে সেসব তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে নিজ দলীয় প্রার্থীদের পাশাপাশি মিত্র রাজনৈতিক দলের প্রার্থীর জনপ্রিয়তাও যাচাই করছে দলটি।

মিত্র দলগুলোর বেশ কয়েকজন নেতাকে ইতিমধ্যে নির্বাচনী এলাকায় কাজ করার ইঙ্গিতও দিয়েছেন বিএনপি হাইকমান্ড। এমনকি ঢাকার দুই-তিনটি আসনও মিত্রদের জন্য ছাড়তে হতে পারে, এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন বিএনপির একাধিক সিনিয়র নেতা। তবে শেষ পর্যন্ত কী হয়, তা দেখার জন্য তফসিল ঘোষণা পর্যন্ত অপেক্ষা করতেই হবে। মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষদিনও অনেক চমক উন্মোচিত হতে পারে।

বিএনপির প্রার্থী হতে চান? লাগবে এই তিন বিশেষ যোগ্যতা!

আপডেট সময় : ১১:০০:৪১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ জুন ২০২৫
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জোরদার প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলটির হাইকমান্ড ইতিমধ্যে প্রার্থী বাছাইয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে এবং এর জন্য একাধিক জরিপ সম্পন্ন করেছে।

লন্ডনে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বৈঠকে নির্বাচনের একটি “সন্তোষজনক সময়” নির্ধারণের পরই বিএনপি ভোটের প্রস্তুতি শুরু করেছে। এই মুহূর্তে দলটির জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো উপযুক্ত প্রার্থী বাছাই করা, কারণ ৫ আগস্টের অভ্যুত্থানের পর প্রতিটি আসনে বিএনপির হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে আগ্রহী অসংখ্য প্রার্থী ইতিমধ্যেই গণসংযোগে নেমেছেন। তবে দলটির হাইকমান্ড যোগ্য প্রার্থী খুঁজে বের করতে ইতিমধ্যেই কয়েক দফা জরিপ চালিয়েছে এবং এই প্রক্রিয়া এখনও চলমান।

প্রার্থী বাছাইয়ের মৌলিক নীতি ও মানদণ্ড

দলীয় সূত্র অনুযায়ী, মনোনয়নের ক্ষেত্রে ২০০১, ২০০৮ এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের বর্তমান অবস্থান পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করা হবে। বিএনপি এমন প্রার্থীর হাতেই নির্বাচনী টিকিট তুলে দেবে, যাকে মনোনয়ন দিলে সাধারণ ভোটাররা খুশি হবেন।

এক্ষেত্রে, তিনটি মৌলিক নীতিকে মনোনয়নের অন্যতম মানদণ্ড হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে:

১. ত্যাগ ও সংগ্রাম: গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াই-সংগ্রামে দেশ ও দলের জন্য যে প্রার্থী সবচেয়ে বেশি ত্যাগ স্বীকার করেছেন। ২. সততা ও গ্রহণযোগ্যতা: যিনি সততার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ এবং নিজ এলাকার জনগণের কাছে একজন ভালো মানুষ হিসেবে সুপরিচিত। ৩. জনপ্রিয়তা: ভোটের রাজনীতিতে যিনি তার নির্বাচনী এলাকায় সর্বাধিক জনপ্রিয়।

দলটির একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র এই মানদণ্ডের কথা যুগান্তরকে নিশ্চিত করেছে।

তরুণদের অগ্রাধিকার ও চমকের ইঙ্গিত

সূত্রমতে, মনোনয়ন প্রদানের ক্ষেত্রে তরুণ প্রার্থীরা অগ্রাধিকার পেতে পারেন। তবে দলের বৃহত্তর স্বার্থ বিবেচনা করে নবীন-প্রবীণের চমৎকার সমন্বয় ঘটিয়ে প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করা হবে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পরিবার থেকেও একাধিক প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন বলে জানা গেছে। এছাড়াও, মিত্র দলগুলোর জন্য কিছু আসন ছাড় দেবে বিএনপি, যা নির্বাচনী কৌশলে নতুন চমক আনতে পারে।

একক প্রার্থী ও নির্বাচনী কার্যক্রম

আওয়ামী লীগের টানা সাড়ে ১৫ বছরে তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে ২০১৪ ও ২০২৪ সালের নির্বাচন বিএনপিসহ বেশিরভাগ রাজনৈতিক দল বর্জন করে। তবে ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিলেও ‘আগের রাতে ভোট’ হওয়ার অভিযোগ তুলে নির্বাচন থেকে সরে আসে। প্রতিকূল পরিবেশে অনুষ্ঠিত ওই নির্বাচনে বিএনপি একটি আসনের বিপরীতে একাধিক প্রার্থীকে চিঠি দিয়েছিল। তবে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে এমনটি করা হবে না বলে জানিয়েছে দল।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ যুগান্তরকে বলেছেন, “এবার দলের সিদ্ধান্ত হলো একক প্রার্থী নির্ধারণ করা। ২০১৮ সালের মতো একাধিক প্রার্থী হবে না।”

তবে, নির্বাচন কমিশনের তফসিল ঘোষণার পরই নির্বাচনকেন্দ্রিক সব কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে। তফসিল ঘোষণার পর দলীয়ভাবে মনোনয়নপত্র বিক্রি ও জমা দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হবে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের সাক্ষাৎকারের পর বিএনপির পার্লামেন্টারি বোর্ড একক প্রার্থী চূড়ান্ত করবে।

দলটির গঠনতন্ত্রের ১৪ অনুচ্ছেদে বলা আছে, “জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য কিংবা অন্য যে কোনো নির্বাচনের জন্য দলের প্রার্থী মনোনয়নে দলের একটি পার্লামেন্টারি বোর্ড থাকবে। জাতীয় স্থায়ী কমিটিই হবে দলের পার্লামেন্টারি বোর্ড। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কিংবা যে কোনো নির্বাচনে দলের প্রার্থী মনোনয়নের দায়িত্ব পার্লামেন্টারি বোর্ড পালন করবে এবং এ ব্যাপারে বোর্ডের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।”

এ প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির একাধিক নেতা যুগান্তরকে বলেছেন, এবার প্রার্থী মনোনয়নে বড় ধরনের অনেক চমক থাকতে পারে। কিছু আসনে এমন ব্যক্তিদের প্রার্থী দেওয়া হবে, যাদের কথা অনেকের চিন্তার মধ্যেও থাকবে না। আবার অনেক সিনিয়র ও প্রভাবশালী নেতাও শেষ পর্যন্ত মনোনয়নের টিকিট নাও পেতে পারেন।

তারা আরও জানান, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ত্যাগী, সৎ-যোগ্য এবং সর্বোপরি জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য প্রার্থীকেই বেছে নিতে পারেন। এছাড়া, এটি নিশ্চিত যে, যার বিরুদ্ধে অপকর্মের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে এবং মাঠে গ্রহণযোগ্যতা নেই, তিনি প্রার্থী হতে পারবেন না। এ বিষয়ে অনেক আগে থেকেই তারেক রহমানের কাছে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাদের আমলনামা রয়েছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, “দলের প্রতি কার কতটুকু ত্যাগ রয়েছে, নিঃস্বার্থভাবে দলকে সেবা করেছেন এবং দুর্দিনে যারা দলের সঙ্গে ছিলেন তাদের আমরা নিশ্চয়ই অগ্রাধিকার দেব। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান কয়েকটি জরিপ করেছেন, আরও করবেন। এর ফলে নিশ্চয়ই যোগ্য ব্যক্তি উঠে আসবে এবং তাকেই মনোনয়ন দেওয়া হবে।”

বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি যুগান্তরকে বলেছেন, “বিএনপি একটি নির্বাচনমুখী রাজনৈতিক দল। আন্দোলন-সংগ্রাম ও সংগঠন পরিচালনা করে নির্বাচন করার জন্য। ফলে নির্বাচনের জন্য আলাদা করে প্রস্তুতি নেওয়ার কিছু নেই, নির্বাচনের জন্য বিএনপি সব সময় প্রস্তুত।” তিনি আরও বলেন, “বিএনপি একটি বড় রাজনৈতিক দল। অনেকে প্রার্থী হতে চান। এক্ষেত্রে দল প্রথমে যেসব প্রার্থীর জনগণের সঙ্গে বেশি সম্পর্ক থাকবে, তাকেই মূল্যায়ন করবে। পাশাপাশি ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন, দলের দুর্দিনে ত্যাগ ও দলের প্রতি যাদের আনুগত্য রয়েছে – এমন প্রার্থীদেরও মূল্যায়ন করবে।”

মিত্রদের জন্য আসন ছাড়

বিএনপি সূত্রমতে, বিগত দিনে বিশেষ করে শেখ হাসিনার সাড়ে ১৫ বছরের ‘দুঃশাসনকালে’ যেসব দল ও জোট তাদের সঙ্গে আন্দোলন-সংগ্রামে ছিল, রাজপথের এমন সঙ্গীদের জন্য আসন ছাড়বে বিএনপি। আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে একসঙ্গে নির্বাচনী মাঠে থাকার চিন্তা করছে দলটি। এজন্য কোন আসনে কোন দলকে ছাড় দেওয়া যেতে পারে, মাঠপর্যায় থেকে সেসব তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে নিজ দলীয় প্রার্থীদের পাশাপাশি মিত্র রাজনৈতিক দলের প্রার্থীর জনপ্রিয়তাও যাচাই করছে দলটি।

মিত্র দলগুলোর বেশ কয়েকজন নেতাকে ইতিমধ্যে নির্বাচনী এলাকায় কাজ করার ইঙ্গিতও দিয়েছেন বিএনপি হাইকমান্ড। এমনকি ঢাকার দুই-তিনটি আসনও মিত্রদের জন্য ছাড়তে হতে পারে, এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন বিএনপির একাধিক সিনিয়র নেতা। তবে শেষ পর্যন্ত কী হয়, তা দেখার জন্য তফসিল ঘোষণা পর্যন্ত অপেক্ষা করতেই হবে। মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষদিনও অনেক চমক উন্মোচিত হতে পারে।