ঢাকা ০৬:৩০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নির্বাচন বানচালে আ.লীগ-ছাত্রলীগের তাণ্ডব: ককটেলসহ ২৪৪ জন গ্রেফতার

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ১০:৫৭:১৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / 310

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করা এবং জনমনে আতঙ্ক তৈরির অভিযোগে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের প্রায় আড়াইশ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে। ঝটিকা মিছিল ও ককটেল বিস্ফোরণের মাধ্যমে রাজধানীতে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির চেষ্টার সময় বুধবার ও মঙ্গলবার রাতে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এই গ্রেফতার অভিযানে সাবেক এক ছাত্রলীগ নেতা ও আওয়ামী লীগের একজন প্রেসিডিয়াম সদস্যের ভাতিজাও সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় কারাগারে গেছেন।

ঝটিকা মিছিল ও ককটেল: ২৪৪ জন গ্রেফতার

বুধবার বিকালে এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) এসএন নজরুল ইসলাম জানান, ঝটিকা মিছিল ও মিছিলের প্রস্তুতির সময় আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের মোট ২৪৪ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এদের অধিকাংশের বাড়ি ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ, গাজীপুর ও গোপালগঞ্জ জেলায়।

গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে ১৪টি ককটেল ও ৭টি ব্যানার উদ্ধার করা হয়। এর আগে ধারাবাহিক অভিযানে পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

নেতাকর্মীরা পান্থপথ, ফার্মগেট, সংসদ ভবন, শেরেবাংলা নগর, হাতিরঝিল ও গুলিস্তানসহ বিভিন্ন এলাকায় মিছিল করে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করে। পান্থপথের পানি ভবন এলাকা থেকেও পুলিশ পরিত্যক্ত অবস্থায় ককটেল উদ্ধার করে।

পুলিশের কঠোর হুঁশিয়ারি ও তথ্য সংগ্রহের অনুরোধ

অতিরিক্ত কমিশনার এসএন নজরুল ইসলাম বলেন, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সংগঠিত হয়ে শান্তিশৃঙ্খলা নষ্টের ষড়যন্ত্র করছে। তাদের অপতৎপরতা রুখতে নগরবাসী সহযোগিতা করছে এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশা করেন।

তিনি আরও বলেন, পুলিশ আবাসিক হোটেল, ফ্ল্যাট ও ছাত্রাবাসে অভিযান চালাচ্ছে এবং গোয়েন্দা নজরদারি চলছে। ঝটিকা মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের অর্থ জোগানদাতা, আশ্রয়দাতা ও লোক সরবরাহকারীদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে। এমন পরিস্থিতিতে, পুলিশ আবাসিক হোটেল, ফ্ল্যাট ও ছাত্রাবাসে আওয়ামী লীগের কর্মী থাকলে পুলিশকে তথ্য দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ দুই নেতার গ্রেফতার ও কারাগারে প্রেরণ

এই অভিযানের মধ্যেই দুইজন গুরুত্বপূর্ণ নেতাকে গ্রেফতার করে আদালত কারাগারে পাঠিয়েছেন:

ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অজয় কর খোকন: মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর গুলশান থেকে তাকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। বুধবার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় তাকে আদালতে হাজির করা হলে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তোফায়েল আহমেদের ভাতিজা ইফতারুল হাসান স্বপন: আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য তোফায়েল আহমেদের ভাতিজা ও দক্ষিণ দীঘলদী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ইফতারুল হাসান ওরফে স্বপনকে মঙ্গলবার রাতে শাহজাহানপুর থানার গুলবাগ থেকে গ্রেফতার করা হয়। পল্টন থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় তাকে আদালতে হাজির করা হলে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহর আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

নির্বাচন বানচালে আ.লীগ-ছাত্রলীগের তাণ্ডব: ককটেলসহ ২৪৪ জন গ্রেফতার

আপডেট সময় : ১০:৫৭:১৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করা এবং জনমনে আতঙ্ক তৈরির অভিযোগে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের প্রায় আড়াইশ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে। ঝটিকা মিছিল ও ককটেল বিস্ফোরণের মাধ্যমে রাজধানীতে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির চেষ্টার সময় বুধবার ও মঙ্গলবার রাতে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এই গ্রেফতার অভিযানে সাবেক এক ছাত্রলীগ নেতা ও আওয়ামী লীগের একজন প্রেসিডিয়াম সদস্যের ভাতিজাও সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় কারাগারে গেছেন।

ঝটিকা মিছিল ও ককটেল: ২৪৪ জন গ্রেফতার

বুধবার বিকালে এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) এসএন নজরুল ইসলাম জানান, ঝটিকা মিছিল ও মিছিলের প্রস্তুতির সময় আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের মোট ২৪৪ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এদের অধিকাংশের বাড়ি ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ, গাজীপুর ও গোপালগঞ্জ জেলায়।

গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে ১৪টি ককটেল ও ৭টি ব্যানার উদ্ধার করা হয়। এর আগে ধারাবাহিক অভিযানে পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

নেতাকর্মীরা পান্থপথ, ফার্মগেট, সংসদ ভবন, শেরেবাংলা নগর, হাতিরঝিল ও গুলিস্তানসহ বিভিন্ন এলাকায় মিছিল করে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করে। পান্থপথের পানি ভবন এলাকা থেকেও পুলিশ পরিত্যক্ত অবস্থায় ককটেল উদ্ধার করে।

পুলিশের কঠোর হুঁশিয়ারি ও তথ্য সংগ্রহের অনুরোধ

অতিরিক্ত কমিশনার এসএন নজরুল ইসলাম বলেন, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সংগঠিত হয়ে শান্তিশৃঙ্খলা নষ্টের ষড়যন্ত্র করছে। তাদের অপতৎপরতা রুখতে নগরবাসী সহযোগিতা করছে এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশা করেন।

তিনি আরও বলেন, পুলিশ আবাসিক হোটেল, ফ্ল্যাট ও ছাত্রাবাসে অভিযান চালাচ্ছে এবং গোয়েন্দা নজরদারি চলছে। ঝটিকা মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের অর্থ জোগানদাতা, আশ্রয়দাতা ও লোক সরবরাহকারীদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে। এমন পরিস্থিতিতে, পুলিশ আবাসিক হোটেল, ফ্ল্যাট ও ছাত্রাবাসে আওয়ামী লীগের কর্মী থাকলে পুলিশকে তথ্য দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ দুই নেতার গ্রেফতার ও কারাগারে প্রেরণ

এই অভিযানের মধ্যেই দুইজন গুরুত্বপূর্ণ নেতাকে গ্রেফতার করে আদালত কারাগারে পাঠিয়েছেন:

ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অজয় কর খোকন: মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর গুলশান থেকে তাকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। বুধবার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় তাকে আদালতে হাজির করা হলে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তোফায়েল আহমেদের ভাতিজা ইফতারুল হাসান স্বপন: আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য তোফায়েল আহমেদের ভাতিজা ও দক্ষিণ দীঘলদী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ইফতারুল হাসান ওরফে স্বপনকে মঙ্গলবার রাতে শাহজাহানপুর থানার গুলবাগ থেকে গ্রেফতার করা হয়। পল্টন থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় তাকে আদালতে হাজির করা হলে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহর আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।