ঢাকা ১০:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভারতীয় মিডিয়ার এই ইউ-টার্ন! ইউনূস বন্দনা, হাসিনা বিরোধিতা কেন?

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৪:১৩:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ জুলাই ২০২৫
  • / 669

আশ্চর্যজনকভাবে, একসময় বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান ড. মোহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা ও মিথ্যা অপপ্রচারে মেতে থাকা ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো এখন হঠাৎ করেই তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ। যারা এতদিন ফ্যাসিবাদী হাসিনার গুণগান গাইতো, তারাই এখন ড. ইউনূসের অর্থনৈতিক দূরদর্শিতা ও সাফল্যের কাহিনি তুলে ধরছে। এই ৩৬০ ডিগ্রি মোড় ঘুরিয়ে নেওয়াটা বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের মনে নতুন সংশয় জাগিয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি অনেকটা ‘ঝোপ বুঝে কোপ মারার’ মতো পরিস্থিতি।

অর্থনৈতিক উন্নয়নের চিত্র ও আন্তর্জাতিক সমর্থন

সম্প্রতি ইটিভি-এর মতো ভারতীয় স্যাটেলাইট টেলিভিশন গত বছরের অক্টোবর থেকে এ বছরের মার্চ মাস পর্যন্ত ড. ইউনূসের নেতৃত্বে বাংলাদেশে আসা বিপুল পরিমাণ বিদেশি বিনিয়োগের চিত্র তুলে ধরেছে। তাদের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সময়ে ৯ হাজার ২৪৭ কোটি টাকার বিদেশি বিনিয়োগ এসেছে এবং চীন থেকে ১০০টি সংস্থা প্রায় দেড়শ বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ী নিয়ে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে। টেলিভিশনটি ড. ইউনূসের এই দূরদর্শিতার ভূয়সী প্রশংসা করেছে।

শুধু অর্থনৈতিক দিক থেকেই নয়, ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো এখন আওয়ামী লীগের পক্ষ ছেড়ে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার প্রধানের অনুকূলে কথা বলা শুরু করেছে। জি-২৪-এর মতো চ্যানেলে ড. ইউনূসকে প্রকাশ্য হত্যার হুমকি দেওয়া এক আওয়ামী লীগ নেতার ভাইরাল হওয়া ভিডিও আগ্রহ নিয়ে প্রকাশ করা হয়েছে, যা আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এমনকি রিপাবলিক বাংলার মতো প্রোপাগান্ডা ছড়ানো টেলিভিশনগুলোতেও আজকাল মাঝেমধ্যেই ড. ইউনূসের প্রশংসা দেখা যাচ্ছে। পশ্চিমা বিশ্বও ড. ইউনূসকে সমীহ করে চলে, যা ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোর এই পরিবর্তনের একটি কারণ হতে পারে।

কেন এই আকস্মিক পরিবর্তন?

বিশ্লেষকরা প্রতিবেশীর গণমাধ্যমগুলোর এই হঠাৎ চরিত্র বদলের পেছনে কয়েকটি কারণ তুলে ধরছেন:

আওয়ামী লীগের বর্তমান অবস্থা: ফ্যাসিবাদী হাসনার দল আওয়ামী লীগ বর্তমানে বাংলাদেশে নিষিদ্ধ এবং তাদের রাজনীতিতে ফেরার কোনো নিশ্চয়তা নেই। অন্যদিকে, ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার বর্তমানে শক্ত অবস্থানে রয়েছে, যা ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোর সুর বদলের অন্যতম কারণ।

হাসিনার আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি: হাসিনার নামে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি রয়েছে এবং প্রায় ২৫০টি হত্যা মামলার আসামির পক্ষ নেওয়ায় ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো নিজ দেশের জনগণের কাছেই ঘৃণার পাত্রে পরিণত হচ্ছিল, যার ফলে তাদের টিআরপি কমতে থাকে। টিআরপি বাড়ানোর জন্যও তারা এখন সুর পাল্টেছে।

ড. ইউনূসের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি: ড. ইউনূস একজন নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। তাই নিজেদের নৈতিকতা থেকেও ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো আর প্রোপাগান্ডা না ছড়িয়ে সত্য তুলে ধরে তাকে প্রশংসায় ভাসাচ্ছে।

নতুন ষড়যন্ত্রের অংশ?: বিশেষজ্ঞ মহল এই সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছে না যে, এটি ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোর নতুন কোনো ষড়যন্ত্রের অংশ হতে পারে। তাদের মতে, বর্তমান সমসাময়িক পরিস্থিতি চিন্তাভাবনা করেই ‘ঝোপ বুঝে কোপ মারার’ মতোই ড. ইউনূসের প্রশংসা করা হচ্ছে।

ফ্যাসিবাদী হাসিনা ‘২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার তীব্র আন্দোলনের মুখে ভারতে পালিয়ে গেলে নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মোহাম্মদ ইউনূস বাংলাদেশের হাল ধরেন। তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো তার সমালোচনা করতে শুরু করে, নানা বানোয়াট ও ভিত্তিহীন প্রোপাগান্ডা ছড়ায়। তবে এবার সেই ‘দাদাবাবুরা’ যেন ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরে গেল।

ভারতীয় মিডিয়ার এই ইউ-টার্ন! ইউনূস বন্দনা, হাসিনা বিরোধিতা কেন?

আপডেট সময় : ০৪:১৩:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ জুলাই ২০২৫

আশ্চর্যজনকভাবে, একসময় বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান ড. মোহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা ও মিথ্যা অপপ্রচারে মেতে থাকা ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো এখন হঠাৎ করেই তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ। যারা এতদিন ফ্যাসিবাদী হাসিনার গুণগান গাইতো, তারাই এখন ড. ইউনূসের অর্থনৈতিক দূরদর্শিতা ও সাফল্যের কাহিনি তুলে ধরছে। এই ৩৬০ ডিগ্রি মোড় ঘুরিয়ে নেওয়াটা বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের মনে নতুন সংশয় জাগিয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি অনেকটা ‘ঝোপ বুঝে কোপ মারার’ মতো পরিস্থিতি।

অর্থনৈতিক উন্নয়নের চিত্র ও আন্তর্জাতিক সমর্থন

সম্প্রতি ইটিভি-এর মতো ভারতীয় স্যাটেলাইট টেলিভিশন গত বছরের অক্টোবর থেকে এ বছরের মার্চ মাস পর্যন্ত ড. ইউনূসের নেতৃত্বে বাংলাদেশে আসা বিপুল পরিমাণ বিদেশি বিনিয়োগের চিত্র তুলে ধরেছে। তাদের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সময়ে ৯ হাজার ২৪৭ কোটি টাকার বিদেশি বিনিয়োগ এসেছে এবং চীন থেকে ১০০টি সংস্থা প্রায় দেড়শ বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ী নিয়ে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে। টেলিভিশনটি ড. ইউনূসের এই দূরদর্শিতার ভূয়সী প্রশংসা করেছে।

শুধু অর্থনৈতিক দিক থেকেই নয়, ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো এখন আওয়ামী লীগের পক্ষ ছেড়ে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার প্রধানের অনুকূলে কথা বলা শুরু করেছে। জি-২৪-এর মতো চ্যানেলে ড. ইউনূসকে প্রকাশ্য হত্যার হুমকি দেওয়া এক আওয়ামী লীগ নেতার ভাইরাল হওয়া ভিডিও আগ্রহ নিয়ে প্রকাশ করা হয়েছে, যা আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এমনকি রিপাবলিক বাংলার মতো প্রোপাগান্ডা ছড়ানো টেলিভিশনগুলোতেও আজকাল মাঝেমধ্যেই ড. ইউনূসের প্রশংসা দেখা যাচ্ছে। পশ্চিমা বিশ্বও ড. ইউনূসকে সমীহ করে চলে, যা ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোর এই পরিবর্তনের একটি কারণ হতে পারে।

কেন এই আকস্মিক পরিবর্তন?

বিশ্লেষকরা প্রতিবেশীর গণমাধ্যমগুলোর এই হঠাৎ চরিত্র বদলের পেছনে কয়েকটি কারণ তুলে ধরছেন:

আওয়ামী লীগের বর্তমান অবস্থা: ফ্যাসিবাদী হাসনার দল আওয়ামী লীগ বর্তমানে বাংলাদেশে নিষিদ্ধ এবং তাদের রাজনীতিতে ফেরার কোনো নিশ্চয়তা নেই। অন্যদিকে, ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার বর্তমানে শক্ত অবস্থানে রয়েছে, যা ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোর সুর বদলের অন্যতম কারণ।

হাসিনার আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি: হাসিনার নামে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি রয়েছে এবং প্রায় ২৫০টি হত্যা মামলার আসামির পক্ষ নেওয়ায় ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো নিজ দেশের জনগণের কাছেই ঘৃণার পাত্রে পরিণত হচ্ছিল, যার ফলে তাদের টিআরপি কমতে থাকে। টিআরপি বাড়ানোর জন্যও তারা এখন সুর পাল্টেছে।

ড. ইউনূসের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি: ড. ইউনূস একজন নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। তাই নিজেদের নৈতিকতা থেকেও ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো আর প্রোপাগান্ডা না ছড়িয়ে সত্য তুলে ধরে তাকে প্রশংসায় ভাসাচ্ছে।

নতুন ষড়যন্ত্রের অংশ?: বিশেষজ্ঞ মহল এই সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছে না যে, এটি ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোর নতুন কোনো ষড়যন্ত্রের অংশ হতে পারে। তাদের মতে, বর্তমান সমসাময়িক পরিস্থিতি চিন্তাভাবনা করেই ‘ঝোপ বুঝে কোপ মারার’ মতোই ড. ইউনূসের প্রশংসা করা হচ্ছে।

ফ্যাসিবাদী হাসিনা ‘২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার তীব্র আন্দোলনের মুখে ভারতে পালিয়ে গেলে নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মোহাম্মদ ইউনূস বাংলাদেশের হাল ধরেন। তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো তার সমালোচনা করতে শুরু করে, নানা বানোয়াট ও ভিত্তিহীন প্রোপাগান্ডা ছড়ায়। তবে এবার সেই ‘দাদাবাবুরা’ যেন ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরে গেল।