জনমত জরিপ: অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার নিয়ে মিশ্র জনরায়
- আপডেট সময় : ১২:৫৪:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২৫
- / 186
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার কার্যক্রম নিয়ে দেশের একটি বড় অংশের মানুষ সন্তুষ্টি প্রকাশ করলেও, অসন্তুষ্টিও রয়েছে প্রায় সমান সংখ্যক মানুষের মধ্যে। প্রথম আলোর উদ্যোগে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান কিমেকারস কনসাল্টিং লিমিটেড কর্তৃক পরিচালিত ‘গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক-রাজনৈতিক বিষয়ে জাতীয় জনমত জরিপ-২০২৫’-এ এই মিশ্র জনমত উঠে এসেছে।
জরিপের তথ্য অনুযায়ী, সামগ্রিকভাবে ৪১.৪ শতাংশ মানুষ সরকারের সংস্কার কার্যক্রমে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন, অন্যদিকে ৩৬.৮ শতাংশ মানুষ অসন্তুষ্ট। ২১.২ শতাংশ মানুষ কোনো পক্ষেই নিজেদের অবস্থান জানাননি।
সংস্কার কার্যক্রমে সামগ্রিক সন্তুষ্টির হার
জরিপে প্রশ্ন করা হয়েছিল, “জুলাই গণ-অভ্যুত্থান–পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার কার্যক্রম নিয়ে আপনি কতটা সন্তুষ্ট?”
কোন সংস্কারে সরকার সফল, কোথায় ব্যর্থ?
জরিপের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, অর্ধেকের বেশি মানুষ মনে করেন, পুলিশ, বিচারব্যবস্থা, প্রশাসন ও আর্থিক খাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারগুলোতে সরকার সফল হতে পারেনি।
১. ব্যর্থ বা কাঙ্ক্ষিত সংস্কার এগোয়নি (অর্ধেকের বেশি মানুষের মত)
২. সফলতার ইঙ্গিত (তুলনামূলকভাবে সন্তুষ্ট অংশের হার)
সংস্কারের ব্যর্থতার জন্য কার দায় বেশি?
সংস্কার কার্যক্রম আরও সফল না হওয়ার পেছনে কার বা কাদের দায় বেশি, এই প্রশ্নে উত্তরদাতারা বিভিন্ন পক্ষকে দায়ী করেছেন:
-
অন্তর্বর্তী সরকার: প্রায় অর্ধেক উত্তরদাতা (৪৭.৫%) সংস্কারে ব্যর্থতার জন্য সরাসরি অন্তর্বর্তী সরকারকেই দায়ী করেছেন।
-
ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সহযোগী: এক-তৃতীয়াংশের বেশি মানুষ মনে করেন, সংস্কারে প্রধান বাধা দিয়েছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সহযোগীরা।
-
অন্যান্য রাজনৈতিক দল:
-
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি): ২২%
-
বিএনপি: ২০.৭%
-
জামায়াতে ইসলামী: ৭%
-
জরিপের পদ্ধতি ও পরিধি
-
সংগ্রহের সময়: গত ২১ থেকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত জরিপের তথ্য সংগ্রহ করা হয়।
-
নমুনার আকার: দেশের ৫টি নগর এবং ৫টি গ্রাম বা আধা শহর অঞ্চলের প্রাপ্তবয়স্ক (১৮-৫৫ বছর) ১ হাজার ৩৪২ জনের মতামত নেওয়া হয়।
-
প্রতিনিধিত্ব: জরিপকারী প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, এটি একটি জাতীয় জনমত জরিপ যা দেশের প্রতিনিধিত্ব করে। জরিপে অংশ নেওয়া মানুষজন বিভিন্ন আয়, শ্রেণি ও পেশার, যারা অনলাইন অথবা ছাপা পত্রিকা পড়েন এবং আগামী নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
-
নির্ভরযোগ্যতা: জরিপের ফলাফলের নির্ভরযোগ্যতার (কনফিডেন্স লেভেল) মাত্রা ৯৯ শতাংশ।


























