কিংবদন্তি লালনশিল্পী ফরিদা পারভীন আর নেই
- আপডেট সময় : ১১:৫২:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- / 240
দেশের কিংবদন্তি লালনশিল্পী ফরিদা পারভীন ৭৩ বছর বয়সে মারা গেছেন। দীর্ঘদিন ধরে কিডনি জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। শুক্রবার দিবাগত রাতে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তিনি স্বামী এবং চার সন্তান রেখে গেছেন।
হাসপাতাল ও চিকিৎসাধীন অবস্থা
ফরিদা পারভীন দীর্ঘদিন ধরে কিডনি জটিলতায় ভুগছিলেন। নিয়মিত ডায়ালাইসিসের অংশ হিসেবে গত ২ সেপ্টেম্বর তাকে রাজধানীর ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু ডায়ালাইসিসের পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে আইসিইউতে ভর্তি করানোর পরামর্শ দেন। এরপর থেকে তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন ছিলেন। গত বুধবার অবস্থার আরও অবনতি হলে তাকে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়। অবশেষে চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আশীষ কুমার চক্রবর্তী তার মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন।
সঙ্গীতজীবন ও অবদান
১৯৫৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর নাটোরের সিংড়া থানায় জন্ম নেওয়া ফরিদা পারভীন ১৯৬৮ সালে, মাত্র ১৪ বছর বয়সে, পেশাদার সংগীতজীবন শুরু করেন। শৈশবে মাগুরায় ওস্তাদ কমল চক্রবর্তীর কাছে তার সংগীতের হাতেখড়ি হয়। শুরুতে নজরুলসংগীত এবং পরে আধুনিক গান গাইলেও, লালন সাঁইয়ের গানই তাকে বিশ্বজুড়ে খ্যাতি এনে দেয়।
লালন সাঁইয়ের গানের বাণী ও সুরকে জনপ্রিয় করার ক্ষেত্রে ফরিদা পারভীনের অবদান সর্বজনস্বীকৃত। শুধু বাংলাদেশ নয়, জাপান, সুইডেন, ডেনমার্ক, কানাডা, অস্ট্রেলিয়াসহ বহু দেশে তিনি লালনসংগীত পরিবেশন করেছেন। লালনগীতি ছাড়াও তার কণ্ঠে বেশ কয়েকটি আধুনিক ও দেশের গানও জনপ্রিয় হয়, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘তোমরা ভুলে গেছ মল্লিকাদির নাম’ এবং ‘এই পদ্মা এই মেঘনা’।
পুরস্কার ও সম্মাননা
সঙ্গীত জগতে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি বহু পুরস্কার ও সম্মাননা লাভ করেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
একুশে পদক: ১৯৮৭ সালে লালনসংগীতে অবদানের জন্য।
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার: ১৯৯৩ সালে ‘অন্ধ প্রেম’ চলচ্চিত্রে শ্রেষ্ঠ নারী কণ্ঠশিল্পী হিসেবে।
ফুকুওকা পুরস্কার: ২০০৮ সালে জাপান থেকে।


























