ঢাকা ০৯:২৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজনৈতিক অস্থিরতার অভিযোগ: মুরাদনগরের ঘটনায় ‘আওয়ামী লীগ-ভারতের হাত

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০১:১১:০৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৪ জুলাই ২০২৫
  • / 270

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় মাদক চোরাচালানের সন্দেহে গণপিটুনিতে এক মা ও তার দুই সন্তান নিহত হয়েছেন। এই মর্মান্তিক ঘটনায় আহত হয়েছেন পরিবারের আরও এক সদস্য। গত ২৬ জুন প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণ ও মারধরের ঘটনা নিয়ে দেশজুড়ে যখন সমালোচনা চলছিল, ঠিক তার রেশ না কাটতেই এই নতুন হত্যাকাণ্ডের ঘটনা মুরাদনগরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘটা এমন ঘটনার পেছনে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

মুরাদনগরে মর্মান্তিক গণপিটুনির ঘটনা

বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই, ২০২৫) সকালে মুরাদনগরের বাঙ্গরা বাজার থানাধীন করইবাড়ী গ্রামে জনৈক খলিলুর রহমানের বাড়ি ঘেরাও করে হামলা চালায় স্থানীয় একদল লোক। মাদক বেচাকেনার অভিযোগে হামলাকারীরা রোকসানা আক্তার রুবি (৫৩), তার ছেলে রাসেল মিয়া (৩৫) এবং মেয়ে জোনাকি আক্তার (২৫)-কে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করে। রোকসানার আরেক মেয়ে রুমা আক্তার (৩০) গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন।

বাঙ্গরা বাজার থানার ওসি মাহফুজুর রহমান জানিয়েছেন, ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং পিটিয়ে ও কুপিয়ে মেরে ফেলার পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কুমিল্লার পুলিশ সুপার নাজির আহমেদ খাঁন ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের জানান, “কেউ অপরাধ করলে তাকে ধরে পুলিশকে খবর দিতে হয়, না হয় থানায় সোপর্দ করতে হয়। কিন্তু আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া যাবে না। গণপিটুনির নামে যারা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে এটি অপরাধ, আমরা তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।”

মুরাদনগরে ধারাবাহিক অস্থিরতা

কুমিল্লা জেলা সংবাদদাতা সাদিক মামুনের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ দিনের ব্যবধানে মুরাদনগরে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে রয়েছে:

  • পুলিশ হেফাজতে বিএনপি কর্মীর মৃত্যু।
  • এক প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণ ও বিবস্ত্র করে নিপীড়নের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া।
  • সাম্প্রতিক গণপিটুনিতে মা ও দুই সন্তানের হত্যা।
  • পাড়ায় পাড়ায় মারামারি ও কিশোর গ্যাংয়ের উপদ্রব বৃদ্ধি।

মুরাদনগর এলাকার জনপ্রিয় নেতা এবং বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ অভিযোগ করেছেন, স্থানীয় উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া নিজের আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে ‘আওয়ামী সন্ত্রাসীদের’ মদদ দিচ্ছেন এবং পুলিশ প্রশাসনও তাকে খুশি করার জন্য কাজ করছে, যার কারণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে।

দেশজুড়ে রাজনৈতিক অস্থিরতার অভিযোগ ও বিশ্লেষণ

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দেশকে অস্থিতিশীল করতে পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন স্থানে নানা ঘটনা ঘটানো হচ্ছে। তাদের মতে, এসব ঘটনার পেছনে ‘পতিত আওয়ামী লীগ’ এবং ‘ভারত’ এর হাত রয়েছে। তাদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদে দেশের বিভিন্ন স্থানে হত্যা, ধর্ষণের মতো ভয়াবহ অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অভিমত, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটিয়ে একটি অস্থির পরিস্থিতি তৈরির ভয়ঙ্কর পরিকল্পনা নিয়ে এগুচ্ছে ‘আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা’, এক্ষেত্রে তারা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় বা পুলিশের সহায়তায় ঘটনা ঘটাচ্ছে।

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে ‘পতিত আওয়ামী লীগ’ এবং তাদের পৃষ্ঠপোষক ‘ভারত’ এ দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য নানান ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘ঘাপটি মেরে থাকা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ভারতের সহায়তায় একেক সময় একেকটা এজেন্ডা নিয়ে মাঠে নামছে। বর্তমানে হত্যা-ধর্ষণের মতো ভয়াবহ অপরাধ সংঘটিত করে দেশের পরিস্থিতি অস্থির করার চক্রান্ত চলছে।’ তিনি সতর্ক করেন, এটি শক্ত হাতে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে সময় মতো আগামী নির্বাচন আয়োজন অনিশ্চিত হতে পারে।

সাইফুল হক আরও উল্লেখ করেন, গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার দেশ ছাড়ার পর, আওয়ামী লীগের কিছু নেতাকর্মী রাতারাতি তাদের ‘ভোল পাল্টে সাধু সেজে’ মাঠে নেমেছে। তারা বিভিন্ন রাজনৈতিক দল বা গ্রæপের সঙ্গে যুক্ত হয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্থির করার চেষ্টা করছে। এর আগে সংখ্যালঘু নির্যাতন ইস্যু, আনসার বিদ্রোহ, সচিবালয়ে অস্থিরতা, পুলিশ বিদ্রোহ, বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার দাবি নিয়ে রাজপথ অবরোধসহ নানা ইস্যুতে সরকারকে ব্যর্থ করার চেষ্টা করা হয়েছে।

ভারতীয় মিডিয়ায় অপপ্রচারের অভিযোগ

বিশ্লেষকদের অভিযোগ, ‘ভারতের সহায়তায়’ এ সরকারের বিরুদ্ধে ব্যাপক অপপ্রচার চলছে। শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতার ভিডিও বার্তাও সুকৌশলে ছড়ানো হচ্ছে। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস দুঃখ করে বলেছেন, ভারতীয় মিডিয়ার পাশাপাশি দেশের মূল ধারার কিছু পত্রিকা এবং সোশ্যাল মিডিয়াতে একটি পক্ষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তিনি সকলকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

অন্যান্য আলোচিত ঘটনা: ভোলা ও পটিয়া

  • ভোলার তজুমদ্দিন: গত ৩০ জুন ঘরে স্বামীকে রাতভর নির্যাতনের পর তাঁর স্ত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় স্থানীয় শ্রমিক দল ও যুব দলের নেতাদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে।
  • চট্টগ্রামের পটিয়া: বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দাবির মুখে পটিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু জায়েদ মো. নাজমুন নুরকে প্রত্যাহার করে চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপ-মহাপরিদর্শকের (ডিআইজি) কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। পুলিশের সংস্কারের দাবিতে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের নেতারা আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছেন। তারা বলছেন, ওসিকে স্থায়ীভাবে অপসারণ করে বিচারের আওতায় আনা তাদের মূল দাবি ছিল। এর আগে পটিয়ায় পুলিশ ও ছাত্রনেতাদের মধ্যে সংঘর্ষে ১৯ জন আহত হন।

রাজনৈতিক অস্থিরতার অভিযোগ: মুরাদনগরের ঘটনায় ‘আওয়ামী লীগ-ভারতের হাত

আপডেট সময় : ০১:১১:০৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৪ জুলাই ২০২৫

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় মাদক চোরাচালানের সন্দেহে গণপিটুনিতে এক মা ও তার দুই সন্তান নিহত হয়েছেন। এই মর্মান্তিক ঘটনায় আহত হয়েছেন পরিবারের আরও এক সদস্য। গত ২৬ জুন প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণ ও মারধরের ঘটনা নিয়ে দেশজুড়ে যখন সমালোচনা চলছিল, ঠিক তার রেশ না কাটতেই এই নতুন হত্যাকাণ্ডের ঘটনা মুরাদনগরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘটা এমন ঘটনার পেছনে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

মুরাদনগরে মর্মান্তিক গণপিটুনির ঘটনা

বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই, ২০২৫) সকালে মুরাদনগরের বাঙ্গরা বাজার থানাধীন করইবাড়ী গ্রামে জনৈক খলিলুর রহমানের বাড়ি ঘেরাও করে হামলা চালায় স্থানীয় একদল লোক। মাদক বেচাকেনার অভিযোগে হামলাকারীরা রোকসানা আক্তার রুবি (৫৩), তার ছেলে রাসেল মিয়া (৩৫) এবং মেয়ে জোনাকি আক্তার (২৫)-কে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করে। রোকসানার আরেক মেয়ে রুমা আক্তার (৩০) গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন।

বাঙ্গরা বাজার থানার ওসি মাহফুজুর রহমান জানিয়েছেন, ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং পিটিয়ে ও কুপিয়ে মেরে ফেলার পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কুমিল্লার পুলিশ সুপার নাজির আহমেদ খাঁন ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের জানান, “কেউ অপরাধ করলে তাকে ধরে পুলিশকে খবর দিতে হয়, না হয় থানায় সোপর্দ করতে হয়। কিন্তু আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া যাবে না। গণপিটুনির নামে যারা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে এটি অপরাধ, আমরা তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।”

মুরাদনগরে ধারাবাহিক অস্থিরতা

কুমিল্লা জেলা সংবাদদাতা সাদিক মামুনের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ দিনের ব্যবধানে মুরাদনগরে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে রয়েছে:

  • পুলিশ হেফাজতে বিএনপি কর্মীর মৃত্যু।
  • এক প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণ ও বিবস্ত্র করে নিপীড়নের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া।
  • সাম্প্রতিক গণপিটুনিতে মা ও দুই সন্তানের হত্যা।
  • পাড়ায় পাড়ায় মারামারি ও কিশোর গ্যাংয়ের উপদ্রব বৃদ্ধি।

মুরাদনগর এলাকার জনপ্রিয় নেতা এবং বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ অভিযোগ করেছেন, স্থানীয় উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া নিজের আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে ‘আওয়ামী সন্ত্রাসীদের’ মদদ দিচ্ছেন এবং পুলিশ প্রশাসনও তাকে খুশি করার জন্য কাজ করছে, যার কারণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে।

দেশজুড়ে রাজনৈতিক অস্থিরতার অভিযোগ ও বিশ্লেষণ

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দেশকে অস্থিতিশীল করতে পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন স্থানে নানা ঘটনা ঘটানো হচ্ছে। তাদের মতে, এসব ঘটনার পেছনে ‘পতিত আওয়ামী লীগ’ এবং ‘ভারত’ এর হাত রয়েছে। তাদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদে দেশের বিভিন্ন স্থানে হত্যা, ধর্ষণের মতো ভয়াবহ অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অভিমত, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটিয়ে একটি অস্থির পরিস্থিতি তৈরির ভয়ঙ্কর পরিকল্পনা নিয়ে এগুচ্ছে ‘আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা’, এক্ষেত্রে তারা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় বা পুলিশের সহায়তায় ঘটনা ঘটাচ্ছে।

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে ‘পতিত আওয়ামী লীগ’ এবং তাদের পৃষ্ঠপোষক ‘ভারত’ এ দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য নানান ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘ঘাপটি মেরে থাকা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ভারতের সহায়তায় একেক সময় একেকটা এজেন্ডা নিয়ে মাঠে নামছে। বর্তমানে হত্যা-ধর্ষণের মতো ভয়াবহ অপরাধ সংঘটিত করে দেশের পরিস্থিতি অস্থির করার চক্রান্ত চলছে।’ তিনি সতর্ক করেন, এটি শক্ত হাতে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে সময় মতো আগামী নির্বাচন আয়োজন অনিশ্চিত হতে পারে।

সাইফুল হক আরও উল্লেখ করেন, গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার দেশ ছাড়ার পর, আওয়ামী লীগের কিছু নেতাকর্মী রাতারাতি তাদের ‘ভোল পাল্টে সাধু সেজে’ মাঠে নেমেছে। তারা বিভিন্ন রাজনৈতিক দল বা গ্রæপের সঙ্গে যুক্ত হয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্থির করার চেষ্টা করছে। এর আগে সংখ্যালঘু নির্যাতন ইস্যু, আনসার বিদ্রোহ, সচিবালয়ে অস্থিরতা, পুলিশ বিদ্রোহ, বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার দাবি নিয়ে রাজপথ অবরোধসহ নানা ইস্যুতে সরকারকে ব্যর্থ করার চেষ্টা করা হয়েছে।

ভারতীয় মিডিয়ায় অপপ্রচারের অভিযোগ

বিশ্লেষকদের অভিযোগ, ‘ভারতের সহায়তায়’ এ সরকারের বিরুদ্ধে ব্যাপক অপপ্রচার চলছে। শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতার ভিডিও বার্তাও সুকৌশলে ছড়ানো হচ্ছে। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস দুঃখ করে বলেছেন, ভারতীয় মিডিয়ার পাশাপাশি দেশের মূল ধারার কিছু পত্রিকা এবং সোশ্যাল মিডিয়াতে একটি পক্ষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তিনি সকলকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

অন্যান্য আলোচিত ঘটনা: ভোলা ও পটিয়া

  • ভোলার তজুমদ্দিন: গত ৩০ জুন ঘরে স্বামীকে রাতভর নির্যাতনের পর তাঁর স্ত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় স্থানীয় শ্রমিক দল ও যুব দলের নেতাদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে।
  • চট্টগ্রামের পটিয়া: বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দাবির মুখে পটিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু জায়েদ মো. নাজমুন নুরকে প্রত্যাহার করে চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপ-মহাপরিদর্শকের (ডিআইজি) কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। পুলিশের সংস্কারের দাবিতে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের নেতারা আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছেন। তারা বলছেন, ওসিকে স্থায়ীভাবে অপসারণ করে বিচারের আওতায় আনা তাদের মূল দাবি ছিল। এর আগে পটিয়ায় পুলিশ ও ছাত্রনেতাদের মধ্যে সংঘর্ষে ১৯ জন আহত হন।