ঢাকা ০২:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রকাশিত হলো এসএসসি ও সমমানের ফল: কমেছে পাশের হার ও জিপিএ-৫

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ১০:১১:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ জুলাই ২০২৫
  • / 281

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) দুপুরে দেশের সব শিক্ষা বোর্ড থেকে একযোগে এই ফল ঘোষণা করা হয়। এ বছর মোট ১৯ লাখ ২৮ হাজার ১৮১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাশ করেছে ১৩ লাখ ৩ হাজার ৪২৬ জন, যা পাশের হার ৬৮.৪৫ শতাংশ। গত বছরের (২০২৪) তুলনায় এবার পাশের হার ১৪.৫৯ শতাংশ কমেছে, যা গত বছর ছিল ৮৩.০৪ শতাংশ। একই সাথে, জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যাও ৪৩ হাজার ৯৭টি কমে ১ লাখ ৩৯ হাজার ৩২ জনে দাঁড়িয়েছে, যেখানে গত বছর ১ লাখ ৮২ হাজার ১২৯ জন জিপিএ-৫ পেয়েছিল।

পরীক্ষা ও ফল প্রকাশের তথ্য

চলতি বছরের ১০ এপ্রিল থেকে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়েছিল। দেশের ৩০ হাজার ৮৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১৯ লাখ ২৮ হাজার ১৮১ জন শিক্ষার্থী মোট ৩ হাজার ৭১৪টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নেয়। দুই মাসেরও কম সময়ের ব্যবধানে এই পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হলো।

বোর্ডভিত্তিক পাশের হার ও জিপিএ-৫ এর চিত্র

দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীন এসএসসি পরীক্ষায় গড় পাশের হার ৬৮.০৪ শতাংশ।

রাজশাহী বোর্ড: পাশের হারে সবচেয়ে এগিয়ে, ৭৭.৬৩ শতাংশ। গত বছর ছিল ৮৯.২৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২২ হাজার ৩২৭ জন, যা গত বছর ছিল ২৮ হাজার ৭৪ জন। অর্থাৎ, এই বোর্ডে পাশ ও জিপিএ-৫ উভয়ই কমেছে।

বরিশাল বোর্ড: পাশের হারে সবচেয়ে পিছিয়ে, ৫৬.৩৮ শতাংশ। গত বছর ছিল ৮৯.১৩ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ১১৪ জন, যা গত বছর ছিল ৬ হাজার ১৪৫ জন। এই বোর্ডেও পাশ ও জিপিএ-৫ উভয়ই কমেছে।

ঢাকা বোর্ড: পাশের হার ৬৭.৫১ শতাংশ। গত বছর ছিল ৮৩.৯২ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে প্রায় ৩৭ হাজার ৬৮ জন, যা গত বছর ছিল ৪৯ হাজার ২৯০ জন। এখানেও পাশ ও জিপিএ-৫ উভয়ই কমেছে।

কুমিল্লা বোর্ড: পাশের হার ৬৩.৬০ শতাংশ। গত বছর ছিল ৭৯.২৩ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ হাজার ৯০২ জন, যা গত বছর ছিল ১২ হাজার ১০০ জন। এই বোর্ডেও পাশ ও জিপিএ-৫ উভয়ই কমেছে।

চট্টগ্রাম বোর্ড: পাশের হার ৭২.০৭ শতাংশ। গত বছর ছিল ৮২.৮০ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১১ হাজার ৮৪৩ জন, যা গত বছর ছিল ১০ হাজার ৮২৪ জন। এই বোর্ডে পাশের হার কমলেও, জিপিএ-৫ এর সংখ্যা বেড়েছে।

দিনাজপুর বোর্ড: পাশের হার ৬৭.০৩ শতাংশ। গত বছর ছিল ৭৮.৪৩ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৫ হাজার ৬২ জন, যা গত বছর ছিল ১৮ হাজার ১০৫ জন। এখানেও পাশ ও জিপিএ-৫ উভয়ই কমেছে।

ময়মনসিংহ বোর্ড: পাশের হার ৫৮.২২ শতাংশ। গত বছর ছিল ৮৪.৯৭ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ হাজার ৬৭৮ জন, যা গত বছর ছিল ১৩ হাজার ১৭৫ জন। এই বোর্ডেও পাশ ও জিপিএ-৫ উভয়ই কমেছে।

যশোর বোর্ড: পাশের হার ৭৩.৬৯ শতাংশ। গত বছর ছিল ৯২.৩৩ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৫ হাজার ৪১০ জন, যা গত বছর ছিল ২০ হাজার ৭৬২ জন। এখানেও পাশ ও জিপিএ-৫ উভয়ই কমেছে।

সিলেট বোর্ড: পাশের হার ৬৮.৫৭ শতাংশ। গত বছর ছিল ৭৩.০৪ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ৬১৪ জন, যা গত বছর ছিল ৫ হাজার ৪৭১ জন। এই বোর্ডেও পাশ ও জিপিএ-৫ উভয়ই কমেছে।

দাখিল ও ভোকেশনাল শাখার ফল

দাখিল পরীক্ষা: মোট ২ লাখ ৯৪ হাজার ৭২৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাশ করেছে ১ লাখ ৯৫ হাজার ১১৫ জন। পাশের হার ৬৮.০৯ শতাংশ, যা গত বছর ছিল ৭৯.৬৬ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ হাজার ৬৬ জন, গত বছর ছিল ১৪ হাজার ২০৬ জন। দাখিলে পাশের হার ও জিপিএ-৫ উভয়ই কমেছে।

এসএসসি ও দাখিল ভোকেশনাল শাখা: এই শাখায় পাশের হার ৭৩.৬৩ শতাংশ। মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১ লাখ ৪৩ হাজার ৩১৩ জন। গত বছর পাশের হার ছিল ৮১.৩৮ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪ হাজার ৯৪৮ জন, যা গত বছর ছিল ৪ হাজার ৭৮ জন। অর্থাৎ, এই শাখায় পাশের হার কমলেও, জিপিএ-৫ এর সংখ্যা বেড়েছে।

প্রকাশিত হলো এসএসসি ও সমমানের ফল: কমেছে পাশের হার ও জিপিএ-৫

আপডেট সময় : ১০:১১:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ জুলাই ২০২৫

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) দুপুরে দেশের সব শিক্ষা বোর্ড থেকে একযোগে এই ফল ঘোষণা করা হয়। এ বছর মোট ১৯ লাখ ২৮ হাজার ১৮১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাশ করেছে ১৩ লাখ ৩ হাজার ৪২৬ জন, যা পাশের হার ৬৮.৪৫ শতাংশ। গত বছরের (২০২৪) তুলনায় এবার পাশের হার ১৪.৫৯ শতাংশ কমেছে, যা গত বছর ছিল ৮৩.০৪ শতাংশ। একই সাথে, জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যাও ৪৩ হাজার ৯৭টি কমে ১ লাখ ৩৯ হাজার ৩২ জনে দাঁড়িয়েছে, যেখানে গত বছর ১ লাখ ৮২ হাজার ১২৯ জন জিপিএ-৫ পেয়েছিল।

পরীক্ষা ও ফল প্রকাশের তথ্য

চলতি বছরের ১০ এপ্রিল থেকে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়েছিল। দেশের ৩০ হাজার ৮৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১৯ লাখ ২৮ হাজার ১৮১ জন শিক্ষার্থী মোট ৩ হাজার ৭১৪টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নেয়। দুই মাসেরও কম সময়ের ব্যবধানে এই পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হলো।

বোর্ডভিত্তিক পাশের হার ও জিপিএ-৫ এর চিত্র

দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীন এসএসসি পরীক্ষায় গড় পাশের হার ৬৮.০৪ শতাংশ।

রাজশাহী বোর্ড: পাশের হারে সবচেয়ে এগিয়ে, ৭৭.৬৩ শতাংশ। গত বছর ছিল ৮৯.২৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২২ হাজার ৩২৭ জন, যা গত বছর ছিল ২৮ হাজার ৭৪ জন। অর্থাৎ, এই বোর্ডে পাশ ও জিপিএ-৫ উভয়ই কমেছে।

বরিশাল বোর্ড: পাশের হারে সবচেয়ে পিছিয়ে, ৫৬.৩৮ শতাংশ। গত বছর ছিল ৮৯.১৩ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ১১৪ জন, যা গত বছর ছিল ৬ হাজার ১৪৫ জন। এই বোর্ডেও পাশ ও জিপিএ-৫ উভয়ই কমেছে।

ঢাকা বোর্ড: পাশের হার ৬৭.৫১ শতাংশ। গত বছর ছিল ৮৩.৯২ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে প্রায় ৩৭ হাজার ৬৮ জন, যা গত বছর ছিল ৪৯ হাজার ২৯০ জন। এখানেও পাশ ও জিপিএ-৫ উভয়ই কমেছে।

কুমিল্লা বোর্ড: পাশের হার ৬৩.৬০ শতাংশ। গত বছর ছিল ৭৯.২৩ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ হাজার ৯০২ জন, যা গত বছর ছিল ১২ হাজার ১০০ জন। এই বোর্ডেও পাশ ও জিপিএ-৫ উভয়ই কমেছে।

চট্টগ্রাম বোর্ড: পাশের হার ৭২.০৭ শতাংশ। গত বছর ছিল ৮২.৮০ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১১ হাজার ৮৪৩ জন, যা গত বছর ছিল ১০ হাজার ৮২৪ জন। এই বোর্ডে পাশের হার কমলেও, জিপিএ-৫ এর সংখ্যা বেড়েছে।

দিনাজপুর বোর্ড: পাশের হার ৬৭.০৩ শতাংশ। গত বছর ছিল ৭৮.৪৩ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৫ হাজার ৬২ জন, যা গত বছর ছিল ১৮ হাজার ১০৫ জন। এখানেও পাশ ও জিপিএ-৫ উভয়ই কমেছে।

ময়মনসিংহ বোর্ড: পাশের হার ৫৮.২২ শতাংশ। গত বছর ছিল ৮৪.৯৭ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ হাজার ৬৭৮ জন, যা গত বছর ছিল ১৩ হাজার ১৭৫ জন। এই বোর্ডেও পাশ ও জিপিএ-৫ উভয়ই কমেছে।

যশোর বোর্ড: পাশের হার ৭৩.৬৯ শতাংশ। গত বছর ছিল ৯২.৩৩ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৫ হাজার ৪১০ জন, যা গত বছর ছিল ২০ হাজার ৭৬২ জন। এখানেও পাশ ও জিপিএ-৫ উভয়ই কমেছে।

সিলেট বোর্ড: পাশের হার ৬৮.৫৭ শতাংশ। গত বছর ছিল ৭৩.০৪ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ৬১৪ জন, যা গত বছর ছিল ৫ হাজার ৪৭১ জন। এই বোর্ডেও পাশ ও জিপিএ-৫ উভয়ই কমেছে।

দাখিল ও ভোকেশনাল শাখার ফল

দাখিল পরীক্ষা: মোট ২ লাখ ৯৪ হাজার ৭২৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাশ করেছে ১ লাখ ৯৫ হাজার ১১৫ জন। পাশের হার ৬৮.০৯ শতাংশ, যা গত বছর ছিল ৭৯.৬৬ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ হাজার ৬৬ জন, গত বছর ছিল ১৪ হাজার ২০৬ জন। দাখিলে পাশের হার ও জিপিএ-৫ উভয়ই কমেছে।

এসএসসি ও দাখিল ভোকেশনাল শাখা: এই শাখায় পাশের হার ৭৩.৬৩ শতাংশ। মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১ লাখ ৪৩ হাজার ৩১৩ জন। গত বছর পাশের হার ছিল ৮১.৩৮ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪ হাজার ৯৪৮ জন, যা গত বছর ছিল ৪ হাজার ৭৮ জন। অর্থাৎ, এই শাখায় পাশের হার কমলেও, জিপিএ-৫ এর সংখ্যা বেড়েছে।